X

‘প্র্যাংক ভিডিও’ ছড়ানো বন্ধে উদ্যোগ কেন নয়; জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

ছবিঃ সংগৃহিত

রাস্তাঘাটে নতুন উৎপাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘প্রাংক ভিডিও’ নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী। বিশেষ করে ঢাকার রাস্তাঘাট, পার্ক ও বিভিন্ন শপিং মলে এধরনের ঘটনা ঘটছে।

কথিত প্র্যাংকের নামে জনগণকে হয়রানি এবং সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দুই আইনজীবীর দায়ের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৪ জুলাই) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নূর মুহাম্মদ আজমী (মিল্লাত) সাংবাদিকদের বলেন, প্রাংকের নামে যা হচ্ছে তা পাবলিক প্লেসে রীতিমত হেনস্থা। তারা গোপনে এটা ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করে অর্থ আয় করে। শপিং মল বা পার্কে এটা বেশি হয়ে থাকে। ‘প্র্যাংক’ করে ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা নিয়ে সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সেখানে হয়রানির একটি ঘটনা তুলে ধরে বলা হয়, নিরিবিলি পার্কে রাস্তার পাশে সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে মুখোশ পরে গাছের আড়াল থেকে হাজির হওয়া। হঠাৎ কোন একটি মেয়েকে কোনো একটি ছেলে গিয়ে বলছে, ‘আপনাকে চুমু খেতে চাই। আপনি কি রাজি?’ এসব আচরণে নাগরিকরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া প্র্যাংক এর ভিডিও গুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি পথে হঠাৎ পানি ছুড়ে বা ময়লা ঢেলে মজা করা হচ্ছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায় পাগলে সেজে বড় লাঠি নিয়ে লোকজনকে তাড়া করছে। পরে যখন আক্রান্তরা আতঙ্কিত বা উত্তেজিত হয় তখন তাদের গোপন ম্যামেরা দেখিয়ে বলা হচ্ছে এইটা প্র্যাংক।

এ ব্যাপারে দেশের স্বনামধন্য কয়েকজন ইউটিউবার এর সাথে কথা বলে জানা যায়, এগুলো কোনভাবেই প্র্যাংক এর পর্যায়ে পড়েনা। এগুলো স্রেফ হয়রানী। অচিরেই এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ।

ইউটিউবে গিয়ে দেখা যায় ফ্রেন্ডজ বুম (Friendz Boom), আয়নাঘর (Aynaghor), Adda Khana Productions, jony the naughty boy নামের চ্যানেল গুলোতে এই ধরনের অসংখ্য প্রাংক আপলোড করা হচ্ছে নিয়মিত।

এভাবে প্রাংক এর দোহাই দিয়ে মানুষকে হয়রানী করা হচ্ছে

অনলাইন মাধ্যমগুলোতে বিশেষ করে ইউটিউবে প্র্যাংক ভিডিও তৈরির নামে (হাস্যরসের মাধ্যমে) নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। নারী ও বয়স্কদের টার্গেট করে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। এর আগে এরকম একটি ঘটনায় একজন তরুনীর বিনা অনুমতিতে তার ভিডিও ইউটিউবে ছাড়লে তরুনী থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরবর্তিতে পুলিশ ভিডিও আপলোডকারীকে ভিডিওটি ইউটিউব থেকে মুছে দিতে বলে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইমের উপকমিশনার (ডিসি) আলিমুজ্জামান বলেন, সাধারণত কারও পূর্ব অনুমতি ছাড়া ভিডিও গ্রহণ বা প্রকাশ, অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। প্র্যাংকের মাধ্যমে কাউকে যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং ভুক্তভোগীরা যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনায় দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ডিএমপি কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments