পরিবার না বন্ধু কাকে বেশী প্রয়োজন?

138
শেয়ার
বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তা
প্রতিকী ছবি

‘নিয়তি তোমার আত্মীয় বেছে দেয়, আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু’ ফরাসী কবি জ্যাক দেলিল এর উক্তিটি ভেবে দেখার মত। আমরা বিষয়টা নিয়ে সবাই খুব বেশী ভাবিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এটা নিয়ে খুব ভেবেছেন। মানে গবেষণা করেছেন।

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের উপর পর্যালোচনা চালিয়েছে। আর এই পর্যালোচনা থেকে সিদ্ধান্তে এসেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে পরিবারের থেকে বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে।

এই গবেষণার ফল অনুযায়ী মানুষের জীবনে সুখী এবং সুস্থ থাকার জন্য বয়স হওয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে। এমনকি যাদের জীবনসঙ্গী বা পরিবার নেই তাদের জন্যও বন্ধুরা হতে পারেন অনেক ভাল সঙ্গী।

সার্বিকভাবে সুস্বাস্থ্য ও সুখী থাকার জন্য পরিবার এবং বন্ধুত্বের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। তবে বেশি বয়সে সুস্থ থাকতে ও সুখী হতে বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে পরিবারের থেকে বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে।

বেশি নয়, অল্প কয়েকজন ভালো বন্ধু বদলে দিতে পারে আপনার চারপাশ। আপনাকে দিতে পারে শারিরীক ও মানসিক সুস্থতা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন ভালো বন্ধুর। এরাই এক সময় আপনার আত্মীয় থেকে বেশী কিছু হয়ে যায়।

আসলে, মানুষের জীবনে পারিবারও প্রয়োজন এবং সে বন্ধনও আনন্দের। তবে কোনো কোনো সময় অনাকাঙ্খিত কিছু মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি জীবনকে একঘেঁয়ে করে তুলতে পারে।

আসুন এবার দেখি গবেষণা কি বলে। ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের উপর যে গবেষণা ‘মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি’র উইলিয়াম চোপিক চালিয়েছেন সেটি দুভাগে পরিচালিত হয়েছে।

প্রথম গবেষণায়, মোট একশটি দেশের বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৩ জন অংশগ্রহণকারীর সম্পর্ক, স্বাস্থ্য ও সুখ এই তিনটি বিষয়ে তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের তথ্য নেয়া হয়। দ্বিতীয় গবেষণায় শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার ৪শ’ ৮১ জন প্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে দীর্ঘস্থায়ী অসুখ ও নির্ভরতার সম্পর্ক এই দুই বিষয়ে তথ্য নেয়া হয়।

প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে, সার্বিকভাবে সুস্বাস্থ্য ও সুখী থাকার জন্য পরিবার এবং বন্ধুত্বের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। তবে বেশি বয়সে সুস্থ থাকতে ও সুখী হতে বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধুত্ব জীবনে আরও বেশি প্রভাব ফেলে। বন্ধু যখন চাপের কারণ তখন বেশি অসুস্থ থাকার এবং বন্ধু যখন ভরসার কারণ তখন অংশগ্রহণকারীরা বেশি সুখী থাকার কথা জানায়।

‘পার্সোনাল রিলেশনশিপস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, এটাই হতে পারে সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রকৃতি। সময়ের সঙ্গে যারা আমাদের ভালো রাখে তাদেরকেই বন্ধু হিসেবে রাখি। বাকিদের আমরা ত্যাগ করি।

বন্ধুত্ব অটুট রাখতে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, দায়িত্বশীলতা ও সম্মানবোধ খুব দরকারী। তাই আসুন নিজেদের ভালো বন্ধুদের চিনে নিই এবং বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী রাখার ব্যাপারে আরো যত্নবান হই।

মন্তব্য করুন

comments