জেনে নিন কোমর ব্যথার কারণ ও তার চিকিৎসা

91
শেয়ার
প্রতিকী ছবি

কোমর ব্যথার যেমন নানা কারণ, তেমনি এর রূপও নানা রকম। অনেক রোগীর হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়, অনেকের ব্যথা হয় ধীরে ধীরে অর্থাৎ দীর্ঘদিন অল্প অল্প ব্যথা অনুভব করার পর একদিন তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হন।

সাধারণত কোমরের নিচের দিকে ব্যথা অনুভূত হয়। আমাদের দেহে ২৯টি মেরুদণ্ডের হাড় আছে, যার মধ্যে কোমরে আছে পাঁচটি। এই পাঁচটি হাড় থেকে আবার ছয় জোড়া নার্ভ শরীরের নিচের অংশে থাকে। সাধারণত এই অংশটিতে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলেই কোমর ব্যথা হয়। আসুন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিই এর কারণ ও প্রতিকার।

যেসব কারণে কোমর ব্যথা হতে পারেঃ

  • ভারী বস্তু তোলার কাজ করলে।
  • নিয়মিত সাইকেল অথবা গাড়ি চালালে
  • কোমরে কোনো কারণে আঘাত পেলে
  • অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ বা সামনের দিকে ঝুঁকে অনেকক্ষণ কাজ করলে
  • তিন থেকে পাঁচ বছর নিয়মিত শক্ত বিছানায় ঘুমালে।
  • সাধারণত কুঁজো হয়ে হাঁটলে বা বসলে
  • ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি হলে

এছাড়া, গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যার কারণেও কোমরে ব্যথা অনুভুত হয়।

প্রতিকারের জন্য যা করবেনঃ

নিচ থেকে বা মাটি থেকে কিছু তুলতে হলে না ঝুঁকে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন ও তারপর তুলুন।

চেয়ারে বসার সময় কোমর সোজা রেখে বসুন। এ জন্য দু-একটি ছোট কুশন কোমরের নিচের অংশে রেখে বসতে পারেন। এতে কোমর সোজা থাকবে।

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকবেন না। হেঁটে আসুন কিছু সময়ের জন্য বা দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন।

চেয়ার টেবিল থেকে বেশি দূরে রাখবেন না। সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন। এমনভাবে বসুন, যেন হাঁটু ও ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।

নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত চেয়ার বাদ দিন। চেয়ারে বসলে পা সামান্য উঁচুতে রাখুন।

ঘাড়ে ভারী কিছু ওঠাবেন না। ভারী জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন। পিঠে ভারী কিছু বহন করতে হলে সামনে ঝুঁকে বহন করুন।

৩০ মিনিটের বেশি একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না। দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে উঁচু হিল পরবেন না। অনেকক্ষণ একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।

গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইলে সোজা হয়ে বসুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম বা হাঁটুন।

দীর্ঘ যাত্রাপথের বিরতিতে ট্রেন বা গাড়ি থেকে নেমে পায়চারি বা হাঁটাহাঁটি করুন।

শক্ত বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে পুরো শরীর যেমন সাপোর্ট পায়, তেমনি নিচের দিকের স্পাইনগুলোতে চাপ কমে যায়। শক্ত বিছানা বলতে কিন্তু খালি কাঠ নয়, আমরা যে তোশক ব্যবহার করি সেটিই, তবে খুব বেশি নরম যেন না হয়। কাত হয়ে অথবা চিত হয়ে শোবেন কিন্তু উপুড় হয়ে শোবেন না।

কিছু ব্যায়ামঃ

কোমর ব্যথার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হলো ব্যায়াম। সামনের দিকে ঝুঁকে কোনো ব্যায়াম করবেন না। এতে ব্যথা আরো বেড়ে যাবে। প্রথমে সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম করুন। এ ক্ষেত্রে নিচের ব্যায়ামগুলো করা যেতে পারে। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি পাশে রেখে দিন। ২-৩ মিনিট বিশ্রাম করুন।

এবার হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ আস্তে আস্তে ওপরে তুলুন। এভাবে ২-৩ মিনিট থাকুন। আবার আস্তে আস্তে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতগুলো শরীরের পাশে রেখে দিন। হাতের ওপর ভর না দিয়ে ডান পা সোজা রেখে শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে তুলুন। যতটুকু পারেন ওপরে তুলে ধরে রাখুন। নিঃশ্বাস বন্ধ করে মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে নিচে নামান। একইভাবে বাঁ পা দিয়েও করুন।

এবার দুই পা একসঙ্গে সোজা করে ওপরে তুলে ১০ পর্যন্ত গুনুন। আস্তে আস্তে নামান। এবার হাতের ওপর ভর না দিয়ে দুই পা ও কোমরের ওপরের অংশ একসঙ্গে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিচে নামান। এভাবে পাঁচবার করে দিনে তিনবার করুন।

সাধারন সতর্কতাঃ

ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই একজন অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ কিংবা একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। তবে কোমর ব্যাথা বা যেকোনো সমস্যায় নিজে নিজে কোনো চিকিৎসা না করে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তারপর সেই অনুযায়ী কাজ করুন।

স্বভাবতই ভিন্ন ভিন্ন কারণের জন্য চিকিৎসাও ভিন্ন রকম হয়। তাই রোগীর উচিত চিকিৎসককে ব্যথার আদ্যোপান্ত জানানো, যাতে চিকিৎসা দিতে সুবিধা হয়। আবার বয়সের ওপরেও চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে।

মন্তব্য করুন

comments