যেভাবে এই বর্ষায় শিশুদের যত্ন নিবেন

37
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

গরম-ঠাণ্ডা মেলানো আবহাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বড়রা তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাহায্যে ছোট ছোট সমস্যা থেকে মুক্তি পেলেও শিশুরা কিন্তু বৈরি এ আবহাওয়ায় নানা রোগের ঝুঁকিতে থাকে।

বর্ষার গুমোট ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় শিশুরা ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে সহজেই। প্রাথমিক অবস্থায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলাব্যথা থাকলেও একটু অযত্নে এ সব রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি টনসিলাইটিস ও নিউমোনিয়া হওয়ার ভয়ও থেকে যায়।

শিশুদের ক্ষেত্রে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শরীরে লাগালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই এই ঋতুতে পরিবারের শিশুদের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। খুব ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হলে আপনিও ছাতা সঙ্গে রাখুন।

এছাড়া বর্ষাকালে তীব্র বৃষ্টির কারণে এখন প্রায়ই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে রাস্তার নোংরা ময়লা পানিতে থাকে নানা জীবাণু। রাস্তার ময়লা পানি শিশুর ত্বকে লাগলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তাদের ত্বকে মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে।

বর্ষায় শিশুর যত্নে কিছু পরামর্শঃ

এ সময় বৃষ্টিতে ঠান্ডা লেগে বাচ্চাদের সর্দিজ্বর হতে পারে। এই জ্বরে বাচ্চাকে প্রচুর তরল খাবার দিন। সেই সঙ্গে লবণ পানির মিশ্রণ দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়ালেই হলো। অবশ্য জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট বেশি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

শিশুকে এ ঋতুতে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ জলীয়বাষ্পজনিত আবহাওয়ায় ত্বকে ময়লা জমে খোস-পাঁচড়াসহ সহজেই নানা ধরনের ইনফেকশন হতে পারে। অনেকেই, বর্ষার সময় শিশুকে প্রতি দিন স্নান করালে তার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এটি ভুল ধারণা।

বর্ষার বৃষ্টিহীন দিনে আবহাওয়া খানিকটা গরম হয়ে ওঠে। আর্দ্র আবহাওয়ায় শিশুর শরীরে যাতে ঘাম বসে না যায় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

বর্ষায় খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ যেমন ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ইত্যাদি হতে পারে। রাস্তার খাবার এড়িয়ে চললে আর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুলে এসব রোগ কম হয়, আর সেই সঙ্গে পানি তো ফুটিয়ে পান করতেই হবে।

বর্ষাকালে শিশুকে ভিটামিন-সি জাতীয় ফলমূল ও পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

বর্ষার রাতে ঠান্ডা কিংবা গরমে শিশুর বুকে ঠান্ডা বসে যায়। কাজেই আপনার শিশুর মধ্যেও যদি এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় তা হলে রাতে ঘুমোনোর সময় তার বুকের ওপর হালকা কোনো কাপড় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রাতে ঘুমের মাঝে শিশু অত্যধিক পরিমাণে ঘেমে যাচ্ছে কিনা সে দিকেও খেয়াল করতে হবে।

শিশুর বসবাস ও খেলার জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে শিশুর হাত, পায়ের নখ কেটে দিতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে আঙুলের ফাঁকে পানি জমে গিয়ে যেন সেখানে কোনো ছত্রাকের জন্ম না হয়।

বর্ষার সময়টায় যাঁদের বাড়ির আশপাশে জল জমে যায় তাঁদের বাড়িতে মশার উপদ্রব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দিনের বেলা কিংবা সন্ধ্যার সময় বিশেষ করে শিশুর ঘুমের সময়টিতে তাকে মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে।

আসলে বর্ষায় আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর ব্যাপারে যদি আমরা সচেতন থাকি, তাহলে এ সময়ে আমাদের শিশুরা থাকবে সুস্থ আর ভাবনাহীন।

মন্তব্য করুন

comments