আসছে তীব্র তাপদাহ এবং কালবৈশাখী

226
শেয়ার

তীব্র দাবদাহ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। মার্চের শেষ দিকে দেশের ওপর দিয়ে এ তীব্র দাবদাহ বয়ে যাবে বলে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমনকি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াবে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের মধ্যভাগজুড়ে তীব্র কালবৈশাখী এবং বজ্রঝড়ের আশঙ্কার কথাও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। মূলত আগামী মাসের শেষের দিক থেকেই ব্যারোমিটারের পারদ ওপরে ওঠতে থাকবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। তবে মার্চে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মাঝারি (৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) এবং এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) বয়ে যাবে, যা বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্রের সাবেক বিজ্ঞানী আবদুল মান্নান কয়েক সপ্তাহ আগেই এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে গত বছর আগাম বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শীতও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আর এবার এগিয়ে আসছে বজ্রঝড় বা কালবৈশাখী। এ মাসের শেষে বা আগামী মাসেই বড় ধরনের ঝড় আঘাত হানতে পারে।’ এ আবহাওয়াবিদের পর্যবেক্ষণ সত্য বলেই প্রমাণিত হলো।

মৌসুম শুরু না হলেও গত রবিবার রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তা কালবৈশাখী ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর পর থেকে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহে আর কোনো বড় ধরনের ঝড়ের জোর সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসেছে চরম বৈরী প্রকৃতির বছর। বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। রবিবার রাত ৩টা থেকে ঝড়ো বাতাসসহ বৃষ্টি হয়। আধাঘণ্টা ধরে চলে এ বৃষ্টি। পরে সকালেও রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। গতরাতে ভিজেছে রাজধানীসহ উত্তরবঙ্গ। দিনভর ছিল মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড়ও হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

কিন্তু শীতকাল বিদায় নিতে না নিতেই কেন এই বজ্রঝড় আর শিলাবৃষ্টি? জানতে চাইলে আবহাওয়া বিজ্ঞানী আবদুল মান্নান জানান, প্রতিবছর ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে দিনের ব্যাপ্তি কম থাকে। এ তারিখে রাত হয় দীর্ঘ।এর পর পরই সূর্যের অবস্থান বদলে দিন বড় হতে থাকে। সূর্যকিরণের তেজ বাড়ে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ এবং পূর্বদিক থেকে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যেতে শুরু করে। পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই মার্চ মাসে এ ধরনের ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়। তবে এবার মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকেই বজ্রঝড় ও বৃষ্টির প্রাকপ্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, তাপমাত্রা যত বাড়ে, ততই বাড়ে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় উচ্চচাপবলয়, যা জলীয় বাষ্পকে ঠেলে নিয়ে যায় বায়ুম-লের ওপরের স্তরে। জলীয় বাষ্প সেই গরম বাতাসের সংস্পর্শে এলে উলম্ব মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়। তার পর জলীয় বাষ্পপূর্ণ উলম্ব মেঘপুঞ্জ এগিয়ে আসে। একসময় তা জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ভেঙে পড়ে। তা থেকেই জন্ম নেয় কালবৈশাখী।

মন্তব্য করুন

comments