বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

37
শেয়ার

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ । বসন্তের আবির মাখানো উচ্ছাসে ভালোবাসার দিনটিতে মেতে উঠবে সবাই। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের এই উচ্ছাসকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে মিলিত হবেন। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ বলে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে। প্রেমিক-প্রেমিকারা ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াবেন সারা দিন। প্রিয় মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলসহ দেবেন বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। বন্ধুরা গল্প আর আড্ডায় ভালোবাসার দিনটিকে নিয়ে বেশ জম্পেশ সময় কাটাবেন। সকাল থেকেই ফুলের দোকানগুলোতে থাকবে তরুণ-তরুণীদের ভিড়। সবাই ব্যস্ত থাকবেন পছন্দের ফুল কিনতে। প্রিয়জনকে একে অন্যের অভিব্যক্তি জানাতেই আয়োজনে মগ্ন থাকবেন তারা।

একটা সময় ছিল ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বসে নিমিষেই বলে দেয়া যায় একে-অপরকে ভালোবাসার কথা। এরপরও একটি দিনক্ষণের অপেক্ষায় থাকেন তরুণ-তরুণীরা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন পর্যটন ও আকর্ষণীয় স্থানে দেখা যাবে উপচেপড়া ভিড়। প্রিয়জন থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবী সবাইকে ঘটা করে ভালোবাসা জানাতেই এই দিনটি। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, ছুটির দিন ও ভালোবাসা উদযাপন করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সের মানুষ ঘুরতে বের হবেন।

ভালোবাসা দিবসে চকলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দুছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মাঝেও ভালোবাসা দিবস পালিত হবে।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরো একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

comments