মিথিলা-ফাহমির ছবি নিয়ে কে কি বললেন

10

তারকাদের স্ক্যান্ডাল নিয়ে সব সময়ই তাদের ভক্তকূলের আগ্রহ খানিকটা বেশিই থাকে। ভালো অভিনয় করলে কিংবা ভালো কোনো কাজ করলে ভক্তরা যেমন ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দেন তেমনি তারকাদের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দিক সামনে আসলে মন খারাপও হয় তাদের। প্রিয় তারকার কোনো মন্দ বিষয় সামনে এসে গেলে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভক্তরা।

তেমনই দেশের কোটি কোটি দর্শকের কাছে প্রিয় জুটি ছিলেন তাহসান-মিথিলা। মানুষ প্রচণ্ড ভালোবাসতেন এই জুটিকে। কোনো এক অজানা কারণে যখন তাদের সংসার ভেঙে গেল তখন তাদের অনেক ভক্তরাও মন ভেঙেছে। আদর্শ এক জুটি হিসেবেই মিডিয়া জগতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন তারা।

সম্প্রতি নাট্যনির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে মডেল-অভিনেত্রী রাফায়াত রশিদ মিথিলার অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক। ছবিগুলোর কারণে ফেসবুকে ট্রলের শিকার হচ্ছেন এই দুই তারকাশিল্পী। সোমবার ‘টেক বিনোদন’ নামে ফেসবুক গ্রুপে দুটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিগুলো ফেসবুকে অনেকেকেই শেয়ার দিতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক কোনো ছবি না এটা’। এই কথা বলেই ফোনটি কেটে দেন তিনি।

ছবি প্রকাশের পরপরই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয় অভিনেত্রী মিথিলার সাথে। কয়েকবার মেসেজ পাঠানোর পর মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। সারাবাংলাকে এ প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এভাবে চর্চা করা অপরাধ। ব্যক্তিগত ছবি বিনা অনুমতিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রকাশ করা সাইবার ক্রাইম। আর যে ছবি নিয়ে এত তোলপাড় হচ্ছে, সেটা এমন অস্বাভাবিক কোনো ছবি নয়। যারা সমালোচনা করছেন তাদের বলব, তারা যেন আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন।

এদিকে রাত পার হওয়ার পর আবারও মিথিলার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফাহমিকেও পাওয়া যায়নি ফোনে।

এদিকে, কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং মিথিলার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিউজ করা হয়েছে। এ দুটি নাম নিয়ে গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে টলিউড ও ঢালিউডের বাতাসে নানা গুঞ্জন। তারা নাকি প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন।

শিগগিরই তারা বিয়ের পিঁড়িতেও বসবেন। গত মার্চে গায়ক অর্ণবের একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের সূত্রে মিথিলার সঙ্গে সৃজিতের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তারপর থেকেই এমন গুঞ্জন।

কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানের সাথে ডিভোর্সের পর সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেত্রী মিথিলা। তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকেই আলোচনায় আসে গায়ক ও অভিনেতা জন কবিরের সঙ্গে মিথিলার প্রেমের খবর। কিছুদিন আগে খবর রটে কলকাতার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, শিগগিরই সৃজিত-মিথিলার বিয়ে হবে বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে দুই বাংলার গণমাধ্যমে। সৃজিতের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন যখন তুঙ্গে এমনি সময়ে প্রকাশ হলো ফাহমির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি আর তার পর থেকেই শুরু হয় নতুন আলোচনা। এখন সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল তাদের এই ছবি নিয়ে। অনেকে এই ছবিগুলো শেয়ার করছেন। বাজে কমেন্ট করছেন ছবির নিচে। এই সময় অনেক তারকারাও দাঁড়িয়েছেন মিথিলা-ফাহমির পাশে। নানা সচেতনতামূলক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন কেউ কেউ।

তবের ভাইরাল ছবিগুলো নিয়ে এতসব সমালোচনার মধ্যে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে মিথিলা-ফাহমির পাশে দাঁড়িয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের বেশ ক’জন তারকা অভিনেত্রী-নির্মাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি উল্লেখ করে তারা স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর লিখেছেন, ‘অন্যের কিছু (তা যত খারাপ হোক) যখন আপনি শেয়ার করছেন তখন আপনিও খুব ভালো কিছু করছেন না।’

জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘যে দেশে ভালোবাসা খারাপ, হস্তমৈথুনে পুরুষত্ব, সে দেশে সাংবাদিকতা খুব স্বাভাবিক বিচারে এরকম হবে। শক্ত হও প্রিয় বোন, শক্ত হও প্রিয় বন্ধু। তোমরা কোনো ভুল করোনি।’

অভিনেত্রী রুনা খান লিখেছেন, ‘যে যে তার নিজের ওয়ালে অন্যের ব্যক্তিগত ও নেতিবাচক নিউজ শেয়ার দেবে— এই মুহূর্তে তাকে আমি ব্লক করব।’

তরুণ নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ লিখেছেন: ‘ফেসবুকে কিছু শেয়ার করার আগে যৌন হয়রানি ও সাইবার আইন সম্পর্কে সতর্ক হোন। দয়া করে এটা মাথায় রাখুন যে, বিষয়টি আপনার বাবা-মা ও শিশুদের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে। আপনার পরিবারেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। কারো ব্যক্তিগত ছবি চুরি করা ও ছড়িয়ে দেয়া অপরাধ এবং মর্যাদাহানিকর। দুজন অ্যাডাল্ট ছেলে-মেয়ে কী করবে সেটা আমাদের বিষয় না। প্লিজ এই ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।’

লাক্স তারকা তানিন তানিহা বলেন, ‘এত এত ঝামেলা হচ্ছে বাংলাদেশে, আর মানুষ এমন ফালতু একটা বিষয় নিয়ে পড়ে আছে। ওদের ভালোবাসা ওরা যা মন চায় করুক। আইডি হ্যাক হয়েছে এজন্য ছবিগুলো দিয়ে মজা নেয়ার কি আছে? আপনি কি কখনো এমন কোনো কিছু করেন নাই? আপনাদের জীবনে এমন কোনো সিচুয়েশন আসে নাই? এমন যদি আপনাদের সাথে হতো? লজ্জা লজ্জা! নিজেকে নিয়ে ভাবেন। আমার তো লজ্জা লাগছে আমার কাছের ভাইগুলোও এমন মজা নিচ্ছে। প্লিজ এগুলো বন্ধ করেন।’

মডেল-অভিনেত্রী কাজল সুবর্ণ লিখেছেন, ‘মেয়েটার একটা বাচ্চা আছে। সে কারো মা। সে কারো সন্তান। কারো বোন। কেউ তো আর ইচ্ছে করে এমন কিছু করে না। আপনারা কি তাকে বাঁচতে দিবেন না? একই ভুল যদি আপনার পরিবারের কেউ করে? তখন কি তাকেও এভাবে ভাইরাল করবেন?’

ফাহমি-মিথিলার ছবি ভাইরাল প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমকে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা বলেন, ‘এটা খুবই অসম্মানজনক। আমরা সত্যিই জানি না সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। আমি তরুণ অভিনেত্রী। দেশের বাইরে যাই। সেখানে গিয়ে ছোট পোশাক পরে ছবি আপলোড করি। কমেন্টে কী জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়! শাড়ি পরে ছবি দিলেও গালাগালি। শুধু আমি নই, জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রীদের ছবির নিচেও বাজে কমেন্ট করা হয়। সেটা যদি সুন্দর ছবিও হয়, তবুও।’

তিনি আরো বলেন, ‘মিথিলা অনেক বড় অভিনেত্রী। গুণী মানুষ। শুধু তা-ই নয়, তিনি একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার। এছাড়া তিনি একজন মা। হ্যাকার বা যারা ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়েছে, তারা জঘন্য। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এসবে আসলে মিথিলা আপুর কিছুই হবে না। তবে একটা কথা সবার মনে রাখা উচিত—আমরা মানুষকে সম্মান দিতে না জানি, অন্তত যেন কারো ক্ষতি না করি। আর এভাবে চলতে থাকলে তো ফেসবুক ছেড়ে দিতে হবে। কী দরকার ফেসবুক ব্যবহার করে গালি শোনার?’

প্রভা তার ফেসবুকে লিখেন, কারো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি শেয়ার বা পোস্ট করার ইথিক্যালি কোনো রাইট আপনি রাখেন না। বিকৃত মানসিকতার আমূল পরিবর্তন হোক। পরবর্তীতে প্রভা তার এই স্ট্যাটাস মুছে ফেলেন।

অভিনেতা পাভেল ইসলাম লিখেছেন, ‘মিথিলা নামে আপনার একটা বোন আছে, যে একজন শিক্ষিকা, যার একটি ছোট কন্যা সন্তান আছে, সম্প্রতি তার ডিভোর্স হয়েছে। পরবর্তীকালে তার কারো সাথে একটি সম্পর্ক হয়েছে, হোক তা বৈধ বা অবৈধ; আপনি কি পারতেন আপনার বোনের সেইসব গোপন ছবি ভাইরাল করতে? এগুলো করে না আপনার সম্মান বাড়ে, না সমাজের, না দেশের! কী লাভ বলেন! আপনি আজ মরলে কাল দুইদিন! মাথা মোটা হইয়েন না।’

মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি লিখেছেন, ‘ভালোবেসে প্রেমিককে চুমু খেয়েছি, প্রেমিকের বুকে মাথা রেখে প্রাণ জুড়িয়েছি, তাতে কার বাপের কি, মায়ের কি বা চৌদ্দগুষ্ঠির কি? কেউ পাবলিক ফিগার বা জনপ্রিয় হলে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো বা ভালোবাসার অধিকার কি উধাও হয়ে যেতে হবে? উনাকে আপনাদের কাস্টোমাইজড অনুযায়ী ফাঙ্কসোনাল অমানব রোবট হয়ে যেতে হবে? যেনো আপনারা সবাই ধোয়া তুলশী পাতা! আদরে, ভালোবাসায় আবৃষ্ঠ থাকতে সবাই চায়, সবাই ভালোবাসে। বোঝা গেলো? বুঝলে বুঝ পাতা, আর না বুঝলে?’

এমন অনেক তারকারাই লিখছেন মিথিলা-ফাহমিকে নিয়ে। সাংবাদিকরা নিউজ প্রকাশ করায় অনেকেই গণমাধ্যমকেও আক্রমণ করে কথা বলেছেন। তারকাদের সমালোচিত বিষয় কেমন করে সামনে আসে! গোপন বিষয় কেনো গোপন থাকে না এমনটা বলেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিএমপি’র সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ বলেন, মিথিলার বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি আরও বলেন, কেউ কারও কোনো ছবি বা ভিডিও বিনা অনুমতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটা সাইবার ক্রাইমের আওতায় পড়ে।

তবে কারা কি উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তা জানা যায়নি। আর মিথিলা কিংবা ফাহমির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

মন্তব্য করুন

comments