অপু বিশ্বাসকে ডিভোর্স দিলেন শাকিব খান

56
শেয়ার

বেশ কিছুদিন ধরে চলে আসা গুঞ্জন অবশেষে সত্যি হলো! ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়ক শাকিব খান ডিভোর্সের চিঠি পাঠিয়েছেন স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে। এর মাধ্যমে শেষ হলো ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই জুটির ৯ বছরের দাম্পত্য সম্পর্ক।বিয়ের খবর প্রকাশের আট মাসের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদে গেলেন তারা।

২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের ব্যাপারটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রেখে তারা দুজন সমানতালে ছবির শুটিং করে গেছেন।
সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকা থাকা অবস্থায় নিজেকে পর্দার আড়ালে সরিয়ে নেন অপু। দীর্ঘ এক বছর তিনি মিডিয়ার সামনে আসেননি।বিয়ের ৮ বছরের মাথায় তাদের কোল জুড়ে আসে এক পুত্রসন্তান। তার নাম আব্রাহাম খান জয়।২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে জয়ের জন্ম হয়।

এরপর ২০১৭’র ১০ এপ্রিল হঠাৎ করেই শিশু সন্তান আব্রাহামকে কোলে নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইভে এসে অপু প্রকাশ করেন শাকিব খানের সঙ্গে তার সংসার ও সন্তান হওয়ার খবর। অবন্তী বিশ্বাস অপু থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে অপু ইসলাম খান নাম নিয়ে শাকিবকে বিয়ে করার কথাও জানান তিনি।অপু এই বিয়ের খবর গণমাধ্যমকে বলে দেয়ায় খুব চটে যান শাকিব। প্রথমে অপুকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেবেন না বললেও পরে স্ত্রীর মর্যাদা দেন তাকে। কিন্তু দুজনের সম্পর্ক একদমই ভালো যাচ্ছিল না। যদিও অপু বারবার বলছেন তারা যেমন সফল জুটি তেমন সফল দম্পতিও।দেশের শীর্ষ একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে শাকিব বলেছিলেন, তিনি চান না মা হওয়ার পর অপু আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করুন।

শাকিব খানের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, নোটিশে শাকিব দু’টি কারণ দেখিয়েছেন। শাকিব অভিযোগ করেছেন, অপু তাদের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে রেখে ‘কথিত’ বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগে শাকিব জানিয়েছেনে, অপু তার কোনো নির্দেশ মেনে চলেন না। তাই তিনি বিবাহবিচ্ছেদ চান।

আইনজীবীর ভাষ্য, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায় এ তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ তালাক কার্যকর হবে নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পর।

তিনি আরও জানান, বিয়ের দেনমোহর বাবদ সাত লাখ টাকা অপুকে পরিশোধ করবেন শাকিব খান। এছাড়া তিনি একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের ভরণ-পোষণ করবেন।

এ বিষয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, গণমাধ্যমের খবরে জেনেছি শাকিব আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি তা হাতে পাইনি। কারণ আমি বাসায় ছিলাম না।

চিঠি পেলে কী ব্যবস্থা নেবেন- জানতে চাইলে অপু বলেন, কী আর ব্যবস্থা নেব। সে যদি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আমার আর কিছু করার থাকবে না। আমার পরিবারের লোকদের সঙ্গে বসে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। এমন কিছু হলে আমাদের দুজনেরই ইমেজ নষ্ট হবে। আমাদের একমাত্র ছেলের জীবনটাও একটা ধাক্কার মধ্যে পড়বে। দেখা যাক কী হয়।

মন্তব্য করুন

comments