সালমানের মৃত্যু নিয়ে এবার মুখ খুললেন সামিরা

77
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর পর থেকে চলেছে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা। তিনি কি খুন হয়েছিলেন না আত্মহত্যা করেছিলেন।

সম্প্রতি, সালমান শাহের খুনের অন্যতম আসামি আমেরিকা প্রবাসী রুবি সুলতানা একের পর এ ভিডিও বার্তা দিয়ে দাবি করেছেন সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে নতুন করে এই মৃত্যু রহস্যের জট খুলতে তদন্ত করছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনস (পিবিআই)।

তার দাবী, এই খুনের সঙ্গে জড়িত তার স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার। তার এই বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। তবে বরাবরের মতোই এ ব্যাপারে নীরব ছিলেন সামিরা। সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি তিনি।

অবশেষে সেই নীরবতার অবসান ঘটল। রোববার (১৩ আগস্ট) কয়েকটি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন সামিরা। দীর্ঘ সময়ের আলাপচারিতায় তিনি বলেছেন, সালমান শাহের সঙ্গে পরিচয়, প্রণয়, বিয়ে, দাম্পত্য জীবন, সালমানের ফিল্ম ক্যারিয়ার ও তার মৃত্যু নিয়ে অনেক কথা।

দীর্ঘ ২১ বছর চুপ করে থাকার কারণ হিসেবে সামিরা বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) কথা ভেবেই আমি কোথাও মুখ খুলিনি। আমাকে যেসব অপবাদ দেয়া হয়েছে সেসব নিয়ে রিঅ্যাক্ট করিনি। কারণ আমার যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে আমি কথা বলেছি। বারবার তদন্ত হয়েছে সালমানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে।

আমাকে তলব করা হয়েছে। আমি গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। যখন যে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তার জবাব দিয়েছি। আমার যেখানে যেটা ক্লিয়ার করার আমি করে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্লিয়ার করেই যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘এতে আমার কোনো ক্লান্তি বা আপত্তি নাই। কারণ আমি জানি, আমি কোনো ভুল করিনি। আমিও সালমানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়েছি সব সময়।

ইমন খুন হয়েছে দাবি করে রুবি যেসব কথা বলছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। এটিও রেজভীর মতো সালমানের মায়ের কোনো সাজানো পরিকল্পনা হতে পারে। এসব কথা প্রেসের কাছে বলতেও আমার সমস্যা ছিল না। কিন্তু আমি নিজেই ইচ্ছে করে প্রেসে আসতে চাইনি।

কেন প্রেসে আসতে চাননি সেই প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার লাইফটা শুরু হয়েছিল প্রেসকে দিয়ে ইমনের হাত ধরে। ইমন যখন ছিল না আমি আর এই জীবনটা চাইনি। তাকে ছাড়া আমি আর এই প্রেসের মুখোমুখি হতে চাইনি। সবকিছু থেকে বের হয়ে এসে আমি একটা নরমাল লাইফ চেয়েছি। নরমাল লাইফ বলতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা।’

সামিরা আরও বলেন, ‘তিনটা বছর একা একা কাটালাম। একটা সময় আমি ভেবেছি বিদেশ চলে যাব পড়াশোনা করতে। সেটা আর হয়নি। আমি ইমনের মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। তার স্মৃতি নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইলাম। তখন খুব প্রয়োজন বোধ করলাম যদি একটি সন্তান আমাদের থাকত! একটা সময় ইমনেরই বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। আমি তাকে ফিরিয়ে দেই। পরে তার পরিবার ও আমার পরিবারের প্রচেষ্টায় বিয়েটা হয়। আমি এখন ভালো আছি।’

সামিরা তার বর্তমান সংসার নিয়ে বলেন, ‘এখানে আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। বড় মালয়েশিয়ায় থাকে। তারপর আরও দুটি মেয়ে রয়েছে আমার। তারা ঢাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করছে।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন আমার এই পক্ষের শাশুড়ি বেঁচে ছিলেন আমার পুরনো শাশুড়ি কিন্তু চিৎকার চেচামেচি করেননি। অনেকদিন তিনি এসব নিয়ে কিছু বলতেন না। কারণ ইমনের মা আমার শাশুড়িকে হাড়ে হাড়ে চিনতেন। তারা প্রতিবেশী ছিল। যখনই আমার শাশুড়ি মারা গেলেন তিনি আমাকে নিয়ে নানা রকম ব্লেম দিতে শুরু করলেন নতুন করে। আমার সন্তানদের, আমার স্বামীর, আমার বাবা, মা, বোন ও তাদের পরিবারের যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে তার দায় নীলা চৌধুরীকে নিতে হবে।

তার মিথ্যা কথার ফুলঝুড়িতে সালমান ভক্তরা আবেগের বশে আমাকে নিয়ে নানা বাজে কথা ছড়াচ্ছেন। আমার বোনদের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে এটা আমি। আমার বোনদের সন্তানদের দেখিয়ে বলা হচ্ছে আমার সন্তান। এদের কারো কিছু হলে দায়ী হবেন নীলা চৌধুরী।’

তার বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমে জড়ানোর অভিযোগ মিথ্যা ও ভীত্তিহীন বলে দাবি করে সামিরা বলেন, ‘আমার পরকীয়া প্রেমের কারণে সালমান শাহের সংসারে অশান্তি, ১৯৯৬ সালে কোনো পত্রিকায় কেন তা ছাপা হয়নি? তখন সালমান-শাবনূরকে নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি ১২ জুন অথবা ১২ জুলাই চিত্রালীতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, সালমানের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছে।’

তার নিজের পরকীয়ার তালিকায় আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডনসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, এ বিষয়ে কী বলতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘এতগুলো মানুষের সঙ্গে পরকীয়া করেছি আর ইমন (সালমান শাহ) কী হাতে চুড়ি পরে ছিল? পরকীয়ার ঘটনা যদি সত্যি হতো ইমন আমাকে খুন করে ফেলত এবং যার সঙ্গে ছিল তাকেও খুন করে ফেলত।

তার নিজের পরকীয়ার তালিকায় আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডনসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, এ বিষয়ে কী বলতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘এতগুলো মানুষের সঙ্গে পরকীয়া করেছি আর ইমন (সালমান শাহ) কী হাতে চুড়ি পরে ছিল? পরকীয়ার ঘটনা যদি সত্যি হতো ইমন আমাকে খুন করে ফেলত এবং যার সঙ্গে ছিল তাকেও খুন করে ফেলত। এসব শুনে আমি অনেক কষ্ট পাচ্ছি।

একেকবার একেকজনের সঙ্গে জড়িয়ে আমাকে বদনাম দেয়া হচ্ছে। সালমান শাহ যার স্বামী তার আবার পরকীয়া করতে হয়? আমি জীবনে পরকীয়া করিনি। আমার দিকে কেউ তাকালে ও (সালমান) চোখ তুলে ফেলত। বউ ছাড়া সালমান কিছু বুঝত না। আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসত। আমিও ওকে প্রচন্ড ভালোবাসতাম।’

সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় ডনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে সামিরা জানান, ‘ডন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সে ঈদে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করত। তার সঙ্গে এমন নোংরা কথা শুনে লজ্জা পাচ্ছি! যে ছবিটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটা ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তোলা। ডনের সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমি নই। ছবিটির মেয়ে নায়িকা সাবরিনা। ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়িকা ছিলেন শাবনাজ। নায়ক সালমান শাহ। সাবরিনা ছিল সেই সিনেমার পার্শ্বনায়িকা। ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করে ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিল সালমান শাহ। এছাড়া ডনের সঙ্গে আমার যে ছবিগুলো আপনারা দেখছেন বা দেখেন সব ফটোশপের কারসাজি। সেগুলো ফটোশপের সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে।

সামিরার বাবা জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শফিকুল কর হিরা সম্প্রতি মিডিয়াতে বলেন, সালমান শাহ মৃত্যুর পূর্বে আর্থিক সমস্যায় ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামিরা বলেন, এ তথ্য সঠিক নয়। আমার বাবা কথাটা এভাবে বলেননি। বাবা আমাদের ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকার উপহার দিতেন, অনেক সময় আমি বাবার কাছে চাইতাম তখন বাবা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

comments