‘সামিরা চরিত্রহীন ছিলো’-রুবী 'আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা চলছে'

281
শেয়ার

অভিনেতা সালমান শাহের অপমৃত্যুর ২১ বছর পর হঠাৎ করে আলোচনায় আসা রাবেয়া সুলতানা রুবি রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের আইপিটিভি ‘টাইম টেলিভিশন’ এ সরাসরি এক সাক্ষাৎকার দেন।সেখানে তিনি দিয়েছেন নানান প্রশ্নের উত্তর।

সাক্ষাৎকারে রুবি জানান, তার প্রথম স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ক্যাপ্টেন জামিল।তার দ্বিতীয় স্বামী জিন চেন।১৯৮৬ সাল থেকে ১০ বছর জন চেনের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেন এবং ১৯৯৭ সালে তারা বিয়ে করেন বলে উল্লেখ করেন।

রুবি বলেন, নিজে একসময়য় মদ্যপান করলেও এখন এসব বাদ দিয়ে ধর্মকর্ম করে শান্তি পাচ্ছেন। কিন্তু নিজের স্বামী এবং ছেলে তাকে চিকিৎসার জন্য এখন মানসিক রোগী হিসেবে দেখাতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।রুবি বলেন, তার ভাই রুমি এবং স্বামী জন চেন সালমান শাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তিনি সন্দেহ করেন।

রুবি বর্তমানে এক চাইনিজের সঙ্গে সংসার করছেন। ক্যাপ্টেন জামিলের সংসারে জন্ম নেয়া পুত্র ভিকিকে নিয়ে ৩১ বছর আগে তিনি এই চাইনিজকে বিয়ে করেন। সালমানের মৃত্যুর পর বেশ কয়েক বছর পর তিনি আমেরিকায় পাড়ি দেন। সেখানেই স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস করছেন তিনি। ভিডিওতে রুবি বলেছেন, তার স্বামী তাকে মেরে ফেলতে চাইছে। তিনি পালিয়ে আছেন।

তিনি বলেন,আমাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে কিন্তু প্রমাণ করে দেখাক তো। আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে হত্যা করা হবে। আমাকে মেরে ফেলে হবে, তারপর বলা হবে আমি সুইসাইড করেছি। আর জীবন রক্ষার জন্য আমি পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার করে পরের ভিডিওগুলো করি। মৃত্যুর আশঙ্কায় আমি স্বামীর বাসা ছেড়েছি।

রুবির ভাষ্যমতে, ‘স্বামীর বাসা ফিলাডেলফিয়াতেতে তিনি আর ফিরবেন না, সেখানে এখন আর তার নিরাপত্তা নেই। গেলেই মেরে ফেলতে পারে। তিনি জানান শিখা নামের একজন নিউ ইয়র্কে তাকে আশ্রয় দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ফিলাডেলফিলফিয়াতে আমাকে আইসোলেটেড করে রাখা হয়েছিল মানসিক ভারসাম্যহীন করে রাখা হয়েছিল। আমি ডিপ্রেশনে ছিলাম ২০১১ সাল পর্যন্ত, কিন্তু কখনোই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলাম না।

একের পর এক ভিডিও দিয়ে কেন বিভ্রান্ত করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি স্বামীর চাপে পড়েই সেসব কথা বলি। আমি প্রথম ভিডিও দেওয়ার পরে আমাকে বাসায় নিয়ে যায় আমার স্বামী। পরে তিনি আমাকে বলে আরেকটা ভিডিওতে বলে দিতে ‘তুমি মানসিক ভারসাম্যহীন,’ যা বলেছ ভুল বলেছে। কিন্তু এরপর বুঝি সত্যিই তারা আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্ল্যান করছে। এমনকী মেরে ফেলার চিন্তাও করছে। কিন্তু যে বাসা ছেড়েছি, সে বাসায় ফিরবো না। ওখানে আমার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে, আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে।

তিনি নিরাপত্তা পেলে বাংলাদেশের তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন। এ বিষয়ে রুবি বলেন, আমি ৮ নম্বর আসামি আমি জানি না আমাকে কীভাবে ফাঁসানো হবে। যে দেশে ২১ বছরেও একটি হত্যার বিচার হয় না, সেখানে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবো এটাই স্বাভাবিক। তবে পুরো নিরাপত্তা পেলে আমি তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে যা জানি শুরু থেকে সব বলবো।

সম্প্রতি ফেসবুক দেয়া ভিডিও বার্তা সম্পর্কে রুবি বলেন, আমি এতোদিন যা জানতাম তা পরিস্কার নয়। তবে এবার আমার ছেলের কাছ থেকে শুনে ক্লিয়ার হয়েছি। আমি তখন বলতে চেয়েছি, হত্যার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু আমি হত্যা বলেছি। তবে আমি সমস্ত কিছু চিন্তা করেই মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড।

রুবি তাঁর সাক্ষাৎকারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তবে বারবার তিনি সালমান শাহের স্ত্রী সামিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলছিলেন।রুবি বলেন, আসলে আমাকে প্রশ্ন করছেন। আমাকে এতো প্রশ্ন করছেন যে কেউ তো সামিরাকে প্রশ্ন করে না। সামিরা কেন সামনে আসে না।

সামিরা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সালমান শাহের (ইমন) স্ত্রী সামিরা চরিত্রহীন ছিল। এজন্য ইমন তাকে মেরেছিল।’

এখানেই থামেননি রুবি। তার ভাষ্যে, সালমান শাহ’র সঙ্গে তার সময়ের সেরা তারকা জুটির নায়িকা শাবনুরের প্রেম ছিল। এটা নিয়েও সামিরার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিল ইমন।

সাক্ষাৎকারে রুবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সালমান শাহের সম্পর্ক কেমন ছিল?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘সামিরা আমাকে যা বলেছেন সেটা বলতে পারব। সামিরা আমাকে বলেছে ইমন তাকে মেরেছে। তাকে দু’বার মেরেছে।’

কেন মেরেছেন এমন প্রশ্নে রুবি বলেন, ‘যতদূর জানি ইমন সামিরাকে মেরেছিল চরিত্রহীনতার দোষে।’

সালমান শাহ’র চরিত্র নিয়েও নাকি তার সঙ্গে কথা হয়েছে সামিরার। রুবি বলেন, ‘সামিরা আমাকে আরও বলেছে- শাবনুরের সঙ্গে ইমনের সম্পর্ক ছিল।’

রুবি আরো বলেন, আসলে নীলা ভাবীর জন্য আমার ভিডিও বার্তা একটি অনুরোধ ছিলো ইমনের হত্যার বিচারের জন্য। এটা সত্যি ছিলো। এখনো বলছি। আর তাছাড়া নীলা ভাবীর কোনো কনটাক্ট ছিলো না আমার কাছে। তাই আমি এভাবেই ভিডিও মেসেজ দিয়েছি।

আপনি যে পাগলামি করছেন না, তার কি প্রমাণ আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রুবি বলেন, ‘আমি পাগল হতে যাব কেন? সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পাগলের অভিনয় করেছি। এটা যদি না করতাম, তাহলে আমি এখানে আসতে পারতাম না।’

মন্তব্য করুন

comments