X

অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ব্যবসায়ীরা

ফার্নিচার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ

চট্টগ্রামের ফার্নিচার ব্যবসার প্রানকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত আগ্রাবাদ এক্সেস রোড গত ৩ মাস ধরে দুর্দশাগ্রস্থ। জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানির কারণে ব্যবসা-বানিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

চট্টগ্রাম নগরীর ফার্ণিচার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হয় মূলত দুই জায়গা থেকে। একটি হচ্ছে আসকাড় দিঘী এলাকায় এস এস সাইফুদ্দিন খালেদ রোড়ে, এবং আরেকটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ হয় আগ্রাবাদের এক্সেস রোড থেকে।

চট্টগ্রাম নগরের শেখ মুজিব সড়কের বাদামতলী মোড় থেকে শুরু হয়ে পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডের ছোট পুল এলাকা পর্যন্ত দুই দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ‘আগ্রাবাদ এক্সেস রোড’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে আগ্রাবাদ থেকে হালিশহর, নয়াবাজার, সাগরিকা, অলংকার মোড়, এ কে খান গেট হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আসা-যাওয়া করা যায়। এই এলাকায় রয়েছে ৩০ টিরও বেশি ফার্ণিচারের শোরুম। প্রতিটি শোরুমের রয়েছে ছোট বড় ফ্যাক্টরি যেখানে শ্রমিক হিসেবে আছে হাজারো শ্রমিক।

বর্তমানে এ সড়ক জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ দুর্দশার অন্যতম কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির নীচে তলিয়ে আছে বেশীরভাগ শোরুম। গত রমজান মাসেও কাংখিত ব্যবসা করতে না পারায় নিদারুণ কষ্টে আছেন এখানকার ফার্ণিচার ব্যাবসায়ীরা।

ইউনিক ফার্ণিচার লিমিটেড এর পরিচালক এস এম ইমতিয়াজ উদ্দিন চাঁটগা পোর্টালকে বলেন, ‘তিন মাস ধরে পানি বন্দি থাকার কারণে দোকানের খরচ আর কর্মচারীদের বেতন মেটাতে হিমসিম খাচ্ছি আমরা, তার মধ্যে দোকানের ভিতর পানি ঢুকে মালপত্র অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে, এই বর্ষায় আমাদের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে, এভাবে যদি চলতে থাকে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে ব্যাবসা চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।’

সরেজমিনে গিয়ে এক্সেস রোড়ের প্রায় প্রতিটা দোকানের একি চিত্র দেখা যায়। হেরিটেজ (HERRITAGE) নামের একটি ফার্ণিচারের শোরুম ইতিমধ্যেই ক্ষতি পোষাতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।

গত ১১ই জুলাই আগ্রাবাদ এক্সেস রোড় ফার্নিচার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে দুই ঘন্টাব্যাপি রাত ৯টা পর্যন্ত আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের প্রতিদিনের জোয়ারের পানির দুর্বিসহ যন্ত্রনা থেকে এক্সসেস রোডের সকল বাসিন্দা, ব্যাবসায়ী এবং পথচারীদের পানিবন্দী থেকে কিভাবে রক্ষা করা যায় সে বিষয়ের উপর জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়,এতে সভাপতিত্ব করেন, এক্সসেস রোড় ফার্নিচার মালিক সমিতির সভাপতি জনাব সাইফুদ্দিন চৌধুরি দুলাল সাহেব।উপস্থিত ছিলেন সমিতির সকল নেতৃবৃন্দ। তার পরের দিন সমিতির পক্ষ থেকে মানববন্ধন করেন তারা।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে এ বছরের বর্ষাকাল জুড়ে ছিলো হাটু থেকে কোমর সমান পানি। রোড়ের দুই পাশের ঘনবসতিপুর্ন এলাকা বেপারী পাড়া, ছোটপুল, সিডিএ আবাসিক এলাকা ও শান্তিভাগের মানুষ অশান্তিতে থাকছে বছরের অর্ধেক সময়। এক্সেস রোড়ের দুই পাশের নালাগুলো এত ছোট যে দ্রুত পানি সরতে পারছে না। ফলে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার ফার্ণিচার ব্যবসা। ব্যবসা না হওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এইসব ব্যাবসার সাথে সংশ্লিষ্ট শত শত পরিবার।

বৃষ্টির পানি অনেক কষ্টে নিষ্কাশন করা গেলেও জোয়ারের পানি কোনভাবে ঠেকানো যাচ্ছেনা, ফলে জোয়ারের পানি আর বৃষ্টির পানি মিলে ডুবিয়ে রাখছে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডও এর আশপাশের এলাকাগুলোকে।

তাছাড়া ও আগ্রাবাদের এই সড়কের দুই পাশে ফার্নিচার, মুদি দোকান, ইলেকট্রনিকস সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় পাঁচ শ দোকান রয়েছে। এই সড়কের পাশেই আছে সমবায় সিঙ্গাপুর মার্কেট। শুধু এই মার্কেটেই রয়েছে ৩১৪টি দোকান। জলাবদ্ধতার কারণে এই মার্কেটসহ সড়কের দুই পাশের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। দোকান খোলা আছে কিন্তু ক্রেতা নেই।

স্থানীয়দের অনেকের মতে,’এক্সেস রোডের এ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী নালাগুলো পুর্ন: নির্মান, প্রশস্ত বৃদ্ধি করা ও সড়কটি উচুঁ করা না হলে এটি অকার্যকর সড়কে পরিনত হবে।’ তাদের মতে, ‘২৪নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড হয়ে পাহাড়তলী থেকে আসা পানি উপছে পড়ে এক্সেস রোডের উপর। দ্রুত এসব পানি সরতে না পেরে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে।’

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বেপারী মোড় এলাকা থেকে আড়ং মোড় পর্যন্ত সড়ক জলমগ্ন হয়ে আছে। সড়কের কোথাও হাটু পরিমান কোথাও আবার কোমর সমান পানি।পানি ঢোকায় সড়কের দুই পাশের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে। পানি সরে যাওয়ার পরে কয়েকটি দোকান খুললেও ক্রেতার অভাবে বেচা-কেনা হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সড়কটি উঁচু ও পাশের নালাগুলো সংস্কার করা হবে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে আগামী বছর থেকে এই সড়কে পানি উঠবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বলা যায়, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। তাই এই সমস্যা নিরসনে স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন এখানকার ব্যাবসায়ীরা। জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাসমূহের সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।

মন্তব্য করুন

comments