চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যা: স্ত্রী মিতু সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

20

চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা প্ররোচনার মামলায় স্ত্রী ও তার পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এস আই আব্দুল কাদের সোমবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবু্দ্দিন আহমেদ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।অভিযোগপত্রে ২১ জনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার মা শামীম শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম। অভিযুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে মিতু সাত মাস কারাভোগ করার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক। মামলার ছয় আসামির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেল নামের একজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন আকাশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই তার স্ত্রী তানজিলা হক মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে ছয় জনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন আকাশের মা জোবেদা খানম। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে মিতুকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

আত্মহত্যার আগে আকাশ তার এই মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে অভিযুক্ত করেন। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আকাশ স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’ ও ‘প্রতারণার’ অভিযোগ আনেন।

৩২ বছর বয়সী আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ‘থ্রি ডক্টরস’ নামে মেডিকেল ভর্তির একটি কোচিং সেন্টার চালাতেন তিনি।তার স্ত্রী মিতু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন করেন। সেখানেই আকাশের সঙ্গে তার পরিচয়, ২০১৬ সালে বিয়ে।

বিয়ের পরপরই উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান মিতু। সেখান থেকে ১৩ জানুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ।

মন্তব্য করুন

comments