চট্টগ্রামে ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট

20

চট্টগ্রামে নয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকে এ পরিবহন ধর্মঘটে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলায় যাত্রী ও পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মোবাইল কোর্টের হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি পূরনে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে এই ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

আজ রবিবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর ছাড়া বাকি নয় জেলায় এই ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু হয়। একে গণপরিবহন সংকটে চাকরীজীবী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুয়েকটি মিনিবাসের দেখা মিললেও সেগুলোতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে।

তবে ঐক্য পরিষদের দাবির সঙ্গে একমত হয়নি চট্টগ্রাম বাস মিনিবাস হিউম্যান হলার মালিক সমিতি। তারা ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করায় নগরে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করছে।

নয় দফা দাবি মেনে নিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সংগঠনটি। ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে গেছে গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ।

ঐক্য পরিষদের ৯ দফা দাবি হলো- গণ ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ করা, জরিমানা মওকুফের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করা, বিআরটিএ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগ করে গণ ও পণ্য পরিবহনে কোনও অতিরিক্ত জরিমানা আদায় না করা, হাইওয়ে ও থানা পুলিশ কর্তৃক গাড়ি জব্দ ও রিকুইজিশন বন্ধ করা, চট্টগ্রাম মেট্টো-এলাকায় গাড়ির ইকোনোমিক লাইফের অজুহাত দেখিয়ে ফিটনেস ও পারমিট নবায়ন বন্ধ না রাখা, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক যান্ত্রিক ক্রুটিযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে গণ ও পণ্য পরিবহন টু বা ডাম্পিং না করা, ড্রাইভার কর্তৃক চালিত গাড়ির রেকার ভাড়া আদায় না করা, সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা ও কাগজপত্র হালনাগাদের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি বন্ধ করা।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু ধর্মঘট পালনের বিষয়ে জানান, নয় দফা দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন এতে সাড়া না দেয়ায় রোববার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ১৪টি সংগঠন এই ধর্মঘটের সাথে একাত্ম আছে বলে এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।

বিকেলে প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে মালিক শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments