জনতার মুখোমুখি মেয়র নাছির; দিলেন নগরবাসীর প্রশ্নের জবাব

50

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার বছর পূর্তিতে ‘জনতার মুখোমুখি’ হয়ে নালার আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ না করা, যানজট, চাঁদাবাজি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে জনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসব বিষয় নিয়ে কখনো অতীতের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ওপর দায় চাপিয়েছেন, কখনো প্রশ্নকর্তাকেই তার দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মেয়র। অপপ্রচারের ভয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া, নগরবাসীর কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও বলেছেন মেয়র।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নগরীর রীমা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘জনতার মুখোমুখি মেয়র’ অনুষ্ঠানে নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে জনতার মুখোমুখি হন মেয়র আ জ ম নাছির। অনুষ্ঠানে মেয়র বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

এ সময় জামালখানের বাসিন্দা মনি সেনগুপ্তা মেয়রকে বলেন, মেয়রের বাসায় বা অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি তিনি। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে দেননি।

এর জবাবে মেয়র বলেন, ‘আমার বাসা থেকে বের হওয়া যুদ্ধের মতো। ড্রয়িং রুমে ৬০-৭০ জন বসে থাকে। ড্রয়িং রুমের পাশের রুম এমনকি করিডোরেও লোক দাঁড়িয়ে থাকে। অফিসেও একই অবস্থা। যতটুকু পারছি সময় দিচ্ছি। এখন আমাকে হাতে লিখতে হয়। কান দিয়ে দর্শনার্থীদের কথা শুনতে হয়। তবে মেয়রের নির্ধারিত কিছু দায়িত্ব আছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিতে হয়। অনেকে এমন সব আবদার নিয়ে আসে যা আমার আওতার বাইরে।’

নালা-নর্দমার আবর্জনায় পানি আটকে জলাবদ্ধতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন অতীতে সব পরিকল্পিতভাবে হয়েছে সেটা বলতে পারছি না। অপরিকল্পিত নগরায়নের কুপ্রভাব আমরা ভোগ করছি। অপরিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের কাজে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। নগরবাসী সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে সমস্যা ধারাবাহিকভাবে সমাধান সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে জলাবদ্ধতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। উত্তরে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন অনেক চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। সিডিএ মেগা প্রকল্প নিয়েছে। সিডিএ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করছে।

পাহাড়ি ঢলে জামালখান এলাকার সড়কগুলোতে বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি হয় এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২০১৫ সালের ২৬শে জুলাই চসিকের দায়িত্ব নিয়েছি। ওইদিন মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করি। ২০১৬ সালে ১১ মাস ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিল বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে জমা দিই। তখন জানতে পারি সিডিএর মেগাপ্রকল্প একনেকে উঠছে। আমরা এর বিরোধিতা করিনি, শতভাগ সহযোগিতার সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষে ১৩টি খালের ড্রয়িং ডিজাইন কয়েকদিন আগে হস্তান্তর করা হয়েছে। চসিক একাধিকবার চিঠি দিয়ে সিডিএকে জানিয়েছে মেগাপ্রকল্পের আওতাধীন খালগুলোর ৩০২ কিলোমিটার তালিকা দেয়ার জন্য। যাতে ওভারলেপিং না হয়। কিন্তু সিডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান দেননি। এখন নতুন চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ৩৮৪ কিলোমিটার খাল সিডিএ করবে।

ফারজানা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা মেয়রকে বলেন, “জামাল খান বাই লেনের নালায় মাটি ও পলিথিনের স্তুপ। গত সপ্তাহে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনকে বলেছি। তিনি বলেছেন, এটা আমাদের নয় সিডিএ’র কাজ। সিডিএ তে বলেছি, তারা বলছে এটা সিটি করপোরেশন করবে। সমাধান কী?”

জবাবে মেয়র নাছির বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল নগরবাসী যত দ্রুত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়। তাই সিডিএ যখন জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প নেয় তখন বলেছি, শতভাগের বেশি সহযোগিতা করবো। সিডিএকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ও মৌখিকভাবে বলেছি, কোন ৩০২ কিলোমিটার সেকেন্ডারি নালার কাজ তারা করবে সেটা জানাতে। তাহলে বাকিগুলো আমরা করবো। একটা প্রকল্প এক প্রতিষ্ঠান নিলে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ওভারলেপিং এর সুযোগ নেই। সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ও সেনাবাহিনী দ্রুত তালিকা দেবেন বলে জানিয়েছেন। উনারা কিছু কাজ শুরু করেছেন। সিডিএ’র সাথে যোগাযোগ করে আপনার এলাকার সমস্যা সমাধান করব।’

নগরীর জামালখানে সড়কের ফুটপাতে বসা অবৈধ বাজার থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। জামালখান সিঁড়ির গোড়া এলাকার বাসিন্দা ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম আহসানউল্লাহ খোকন বলেন, ‘সিঁড়ির গোড়ায় সকালে অবৈধ বাজার বসে। সেখানে চাঁদাবাজি চলে। ভ্যান থেকে ৪০০, মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে ৩০০ এবং ঝুড়ি নিয়ে যারা বিক্রি করে তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। পুলিশ একভাগ, সিটি করপোরেশনের লোকজন একভাগ এবং নেতা এক ভাগ নেয়।’

জবাবে মেয়র নাছির বলেন, ‘আপনি সিটি করপোরেশনের বিষয়ে ঢালাওভাবে বললে তো হবে না। কে নেয়, নাম জানেন? নাম জানলে বলেন।’ উত্তরে আহসানউল্লাহ খোকন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নকর্মীরা টাকা তোলে।’

এরপর মেয়র বলেন, ‘যদি আপনার অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে তাদের আমি ডাকব। ব্যবস্থা নেব। আপনিও তো এলাকার নেতা। আপনার কী ভূমিকা আছে। নগরীতে যত বাজার প্রয়োজন তত নেই। আপনি না করলেও এখানে অনেকে হয়ত বাজার করেন। তবে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেব।’

প্রীতম দাশ নামে অপর এক নাগরিক জামাল খান এলাকায় মেয়রের নাম ব্যবহার করে ছিনতাই-চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেন। উত্তরে মেয়র বলেন, এ অভিযোগ নিকটস্থ থানা পুলিশকে দিতে হবে। আপনি কি কখনও দিয়েছেন। দিলে অবশ্যই পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাংবাদিক প্রীতম দাশ বলেন, ‘নগরীর জামলাখানসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাই-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এই অপরাধীদের অনেককে মেয়রের নাম ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা?’

জবাবে মেয়র বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে। আপনি সেসব অপরাধীরে বিরুদ্ধে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করেছেন কিনা? কোনোসময় আমাকে বা কাউন্সিলরকে জানিয়েছেন কিনা? অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নগরীর গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাত্রীসেবার লক্ষ্যে ১০০ এসি বাস নামানোর জন্য একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে রাজি করিয়েছি। তারা এলসি খুলেছে। বিআরটিএ ও সিএমপিকে অনুরোধ জানিয়েছি দ্রুত অনুমোদন দেয়ার জন্য। এ সময় মেয়র আরো বলেন, নিরাপদ, বাসযোগ্য, পরিষ্কার ও সবুজনগর হিসেবে ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ কাজে নগরবাসীকে আমাদের সঙ্গে পেতে চাই। জোর করে চাপিয়ে দিলে টেকসই উন্নয়ন হয় না। তাই ধীরগতিতে এগোচ্ছি আমরা। আমার প্রত্যাশা উন্নত দেশের সমৃদ্ধ নগরের মতো চট্টগ্রামকেও গড়ে তোলা। এটির বাস্তবায়ন সম্ভব। যা বাস্তবায়ন করতে পারবো এমন স্বপ্ন দেখতে চাই, দেখাতে চাই। যা বাস্তবায়ন করা যাবে না সেই স্বপ্ন দেখাতে চাই না।’

যানজট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘এটা কোনো পরিকল্পিত নগর নয়। হলে এই নগরের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতো। কোন ওয়ার্ডে কত স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল থাকবে সেভাবে নির্ধারিত থাকতো। এভাবে যানজটসহ নানা সমস্যা হতো না।’

অনুষ্ঠানে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির চিত্রও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমাদের আদায় ৪০ শতাংশ। মানে ৫৯ কোটি টাকা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ভর্তুকি মোট ৫৪ কোটি টাকা। হাতে থাকে ৫ কোটি। মাসে বেতন-ভাতা দিতে হয় ২০ কোটি টাকা। বছরে প্রশাসনিক ব্যয় আসে ২৬০ কোটি টাকা। নগরবাসীর কাছ থেকে যে সমর্থন পাওয়া দরকার তা পাই না।’

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ বন্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। নিজে দাঁড়িয়ে জরিমানাও করেছিলাম। কিন্তু সে সময় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল- আমি নাকি নগর কিনে ফেলেছি। নগরীর শাসক হয়ে গেছি। মার্শাল ল’ জারি করেছি কিনা? এই ধরনের অপপ্রচারের কারণে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপকারীরে বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ রয়েছে।”

সাম্প্রতিক গুজবের বিষয়ে একজন নাগরিক প্রশ্ন করলে মেয়র বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিত্তিহীন গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে কাউকে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। আমি ইতিমধ্যে আমার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গুজব প্রতিরোধে একটি নির্দেশনা দিয়েছি।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘চসিক নিয়মিত নগরে ওষুধ ছিটাচ্ছে, ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করছে এবং রাতের মধ্যে পুরো নগরের ময়লা অপসারণ করছে। ফলে অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে চট্টগ্রামে মশা কম, ডেঙ্গুর প্রকোপও কম। ফগার ও হ্যান্ড সেপ্র মেশিনে ১৬১ জন ওষুধ ছিটাচ্ছেন। ডাক্তারদের সচেতন করেছি। নগরবাসীকে বিজ্ঞপ্তি, প্রচারপত্র দিয়ে সচেতন করছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ যদি চিকিৎসা করাতে অপারগতা জানান তবে আমরা দায়িত্ব নেব।’

মেয়র সবার প্রশ্ন ধৈর্যসহকারে শোনেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম নিয়ে, চট্টগ্রামের নগরবাসীকে নিয়ে তার স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন করেছেন, তেমনি বিলবোর্ডের আড়াল থেকে মুক্ত করেছেন নগরীকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে মিড আইল্যান্ডের সৌন্দর্য এখন দৃশ্যমান। মেয়র বলেন, চার বছরে নগরীতে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। চট্টগ্রাম নগরীকে গ্রিন, ক্লিন ও নিরাপদ সিটি হিসেবে বাস্তবায়নের স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ধরনের হাজার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা।

মেয়র বলেন, ‘আমি কোনো সম্মানী বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করিনি। ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সম্মানীসহ সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে আসছি। শিক্ষার্থী, সেবা সংস্থা, রোগীদের কল্যাণে এ টাকা খরচ হচ্ছে।’

নির্বাচনী ইশতেহারের কত শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের যে দায়িত্ব তা আমি পালন করেছি। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার নেই আমার। নির্বাচনের সময় ভোটারদের ম্যান্ডেটের একটি বিষয় থাকে। সন্তুষ্টি বা মন জয় করার জন্য ইশতেহার দিতে হয়। ইশতেহারে যে সব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে সিটি করপোরেশনের ম্যানুয়েলে যেগুলো করার সুযোগ আছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি গত চার বছরে। এক্ষেত্রে চাইলেও নির্বাচনী ইশতেহার শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান তিনটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রাস্তাঘাট নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতি দিয়ে আলোকায়ন করা। তিনটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। নগরবাসী এটার সাক্ষী। কাঁচা রাস্তার সংখ্যা কমেছে, পাকা রাস্তার সংখ্যা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে বিমানবন্দর সড়কসহ বাকি রাস্তাগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। গত চার বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে।’

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর সব ওয়ার্ডে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আ জ ম নাছির বলেন, জনগণের অভিযোগ শুনব। পরামর্শ শুনব। সব সমস্যা তৃণমূল থেকে সমাধানের চেষ্টা করব।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনী, জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন এবং মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই বছরের ২৬ জুলাই তিনি মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন

comments