“কক্সবাজারে বিদেশিদের জন্য পৃথক সমুদ্র সৈকত এলাকা গড়ে তোলা হবে”

38

“বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকদের জন্য পৃথক সমুদ্র সৈকত এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে তাদের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ১২ দিনের সরকারি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকার এ বিমানবন্দর সংস্কারে অর্থায়ন করবে। এখানে আন্তর্জাতিক রুটের বিমানগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে। একই সঙ্গে ইচ্ছে করলে তারা কক্সবাজার পর্যটন এলাকাও ঘুরে দেখতে পারবে।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত যাবে। সবাই এটাই চায়, কিন্তু মিয়ানমার চায় না। এটাই সমস্যা। আমরা চুক্তি করেছি কিন্তু তাদের সাড়া পাইনি। মিয়ানমারই আগ্রহী না। তবু দেখা যাক, সবাই মিলে বললে হয়তো সাড়া পাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কাজ চলছে। মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলছি, জাপানের সঙ্গে কথা বলছি, অন্যদের সঙ্গে কথা বলছি– সবাই বলছে, হ্যাঁ তারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।’

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইনে তো এখনও কিছু মানুষ আছে। আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছে। সবকিছু যখন প্রায় চূড়ান্ত, তখন দেখা গেল রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে চায় না। তারা ফিরে না যাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করলো। কিন্তু এই আন্দোলনের উসকানিটা কারা দিল?’

রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক– এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দেশের সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। তারা রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দেয়।এতে তারা লাভবান হচ্ছে। রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে তাদের ফান্ড বন্ধ হয়ে যাবে এবং অনেকে চাকরি হরাবে এ জন্য রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। আমরা এক সময় রোহিঙ্গাদের তালিকা করলাম, ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করলাম পরে কিন্তু দেখি তারা আন্দোলন করছে। তারা দেশে ফিরে যাবে না।

দেশে ফিরে যেতে তাদের নাকি ভয় করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সত্য যে, তারা মিয়ানমারের ফিরে যেতে ভয় পায়। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সে দেশের রাখাইন রাজ্য ঘুরে আসা হয়েছে। পরিস্থিতি জেনে তবেই না ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়ন সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সৌদি আরবে ওআইসি সম্মেলনেও তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে ওআইসির সদস্য দেশগুলো আশ্বাস দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানে যেমন সফর হয়েছে, চীনেও হবে। দাওয়াত ছিল, সে সময় পার্লামেন্টে জরুরি কিছু বিষয় থাকায় সময় করতে পারিনি। আগামী জুলাই মাসে আবার দাওয়াত দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তখন আমাদের বাজেট পাস হবে। ওখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সামিট হবে সামারে। যে শীত সেখানে, ওই শীতে জীবনেও যেতে পারব না। এখন সামার সামিট হবে ওখানে। চীনের রাষ্ট্রপতিও দাওয়াত দিয়েছেন। ইনশাল্লাহ জুলাইতেই যাব সেখানে।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সবাই সম্মান করে। অথচ বাংলাদেশ থেকে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস থেকে তো মুছে ফেলা যায় না। ওই সময় যারা তরুণ ছিলেন, তারাই রাজনীতির শীর্ষে। তারা বঙ্গবন্ধুকে জানেন। তাই তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। তাদের দাওয়াত আছে। কিন্তু সব দাওয়াত তো রাখা যায় না। বয়সও হয়ে গেছে। গতবার সময় স্বল্পতার কারণে পারিনি। আশা করছি জুলাই মাসে চীনে যাব।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

১২ দিনের সরকারি সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে রোববার বিকেল ৫টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।গত ২৮ মে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। টোকিওতে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।জাপান সফর শেষে ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ মে শেখ হাসিনা সৌদি আরবে যান। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ওমরাহ পালন করেন তিনি, জিয়ারত করেন মহানবীর (স.) রওজা। সৌদি আরব থেকে গত ৩ জুন ফিনল্যান্ড যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি হয়।

মন্তব্য করুন

comments