চট্টগ্রামে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগে নগরবাসী

87

চট্টগ্রামে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে রীতিমতো ত্যক্ত-বিরক্ত নগরবাসী। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে এসব খোঁড়াখুঁড়ি। সাইড পাইপলাইন স্থাপনের নামে নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক থেকে শুরু করে গলিপথগুলো পর্যন্ত খোড়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বাদ যায়নি কয়েকমাস আগে কার্পেটিং হওয়া সড়কগুলোও। যার ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি হলেও সুষ্ঠ পরকিল্পনার অভাবে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। উন্নয়নের নামে এমন দুর্ভোগ মাথা পেতে নিলেও এখন আর সহ্য হচ্ছে না। একই সড়ক বারবার কাটা ও দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংস্কার না করে রেখে দেয়াতে দিন দিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে নগরবাসী।

ওয়াসার কাজ করতে গিয়ে নগরীর প্রায় সব সড়কই কাটা পড়েছে। বাদ পড়েনি প্রধান সড়কও। এমনকি একই সড়ক বার বার কাটা হয়েছে। রাস্তা কাটা পড়লে সরু হয়ে পড়ে সে রাস্তার সীমা। এতে যানজট বাধলে সেটা স্থায়িত্ব পায়। দীর্ঘ যানজটে অতিষ্ঠ হয় নগরবাসী। এ অবস্থার মধ্যে আবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে লিকেজ। রাস্তার মাঝে হঠাৎ করেই পাইপলাইন লিকেজ হয়ে পানি উঠছে। গত দু’মাসে বেশ কয়েকটি জায়গায় এমন লিকেজের ঘটনা ঘটেছে।

মাত্র কয়েকমাস আগে সংস্কার করা হয়েছে বৃষ্টি ও জেয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের সড়কটি। কিন্তু এখন এই সড়কটির ক’হাত পরপর বড়-বড় গর্ত করেছে ওয়াসা। কারণ নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে পাইপলাইন বসাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নগরীর প্রায় সবকটি সড়ক মহাসড়কের চিত্র একই। সিটি কর্পোরেশনের অধিনস্ত মোট ১১শো কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৩ শো কিলোমিটারই কাটার অনুমতি নিয়েছে ওয়াসা। অর্থাৎ কোন কোন সড়কের দু’পাশই কাটার অনুমতি নিয়েছে তারা। যা চলবে ২০২২ সাল পর্যন্ত।

এদিকে শহরের প্রধান সড়কে আবারো খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করার কারণে দীর্ঘ যানজটসহ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রাম ওয়াসা বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়াতে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি ওয়াসায় যুক্ত হওয়ায় নগরের পানি সরবরাহের আগের চিত্র কিছুটা পাল্টেছে। একইসঙ্গে নগরীতে এ মুহূর্তে তিনটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২, মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প ও পুরাতন পাইপলাইন সংস্কার প্রকল্প।

এর মধ্যে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। একইভাবে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ (কেডব্লিউএসপি) এর কাজও অনেকাংশে এগিয়েছে। কিছু অংশের কাজ ছাড়া প্রকল্পটির তেমন বড় ধরনের কোনো কাজ বাকি নেই। এ অবস্থার মধ্যেও খোঁড়াখুঁড়ি অব্যাহত রেখেছে ওয়াসা। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে আরাকান সড়কের একাংশ। কিছুদিন আগে থেকে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়েছে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড এবং জি ই সি সংলগ্ন রোড়ে। ওয়াসার এ খোঁড়াখুঁড়িতে যানজটসহ নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে।

খোঁড়াখুঁড়ির পর দীর্ঘ সময় সড়কের কাজ না করে ফেলে রাখা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছুটা দুর্ভোগ হবে। কোনো জায়গায় কাজ না করে ফেলে রাখা হয়নি। আরাকান সড়কের কিছু অংশের কাজ দীর্ঘদিন থেকে না করে রাখা হয়েছে। সেখানে কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে, যা চায়না থেকে এখনো আসেনি। বাকি অংশের কাজ শেষ করে খুলে দেয়া হয়েছে।’

নগরবিদরা বলছেন, আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক দাতা সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তাই উন্নত বিশ্বের মতো সড়কের পাশে আলাদা ইউটিলিটি করিডোর তৈরী করতে পারলে জনদুর্ভোগ যেমন কমবে, রোধ হবে অর্থের অপচয়ও।

নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ক্ষতিপুরণের টাকা পরিশোধ করা হয় সিটি কর্পোরেশনকে। কিন্তু টেন্ডারসহ আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতায় দীর্ঘায়িত হয় সংস্কারকাজ। এক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের দায়িত্ব দিয়ে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

comments