“সমাজ সংসারে শুধু আমিত্ব আর আমিত্ব”

235
শেয়ার

মানুষের হিংস্রতা,নির্মমতা কতটা ভয়াবহ হয় তার উদাহরন দিয়ে শেষ করা যাবে না। একটা মেয়ে তার নিজের বাবা মাকে ছেড়ে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখে।বিয়ের আগে মেয়েদের বাবার বাড়িই হয় আশ্রয়স্থল। কিন্ত বিয়ের পর মেয়েদের স্বামী সংসার হয় শেষ আশ্রয়স্থল। আমার বোনটাকে যদি একটা সুপাত্রের হাতে তুলে দিতে পারি তাহলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। সমাজ সংসারে আমিত্ব আর আমিত্ব। আমি যেমন মেয়ের বাবা তেমনি আমি ছেলেরও বাবা। আমি আমার মেয়েকে তার স্বামীর সংসারে সুখে দেখতে চাই। কিন্ত অন্য একটা মেয়েকে যখন আমার পুত্রবধূ হয়ে আসে তখন আমিত্বর কাছে সব হার মানে। ঘটনা পরিক্রমায় আজ একটা একটা হৃদয় বিদারক ঘটনার সামান্য বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের অজান্তে চোখের কোণে পানি ছলছল করে।

গত ২১ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে তেমনি একটি মেয়ের ছিল স্বামী সংসারের শেষ অধ্যায়। চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর ‍পিলখানা এলাকার নিষ্ঠুর স্বামী আজগরের বাসা।মাত্র দুই মাস আগে ধূমধাম করে বিয়ে হয় বিবি শিবলীর।স্বামী সংসার কি বুঝে উঠার আগেই তাকে চলে যেতে হয় পরপারে।
ঐদিন সকালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সামন্য তর্ক বিতর্ক। তারপর ইতিহাস। নতুন বিয়ে, মনে এখনো বাপের বাড়ির টান প্রতিটি মেয়ের চিরাচরিত নিয়ম। যে বাবা মা তাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে সেই বাবা মার প্রতি সামান্য টান নিষ্ঠুর আজগর মেনে নিতে পারেনি। ব্যস, তর্কাতর্কীর এক পর্যায়ে মেয়েটি বলল তার বাপের বাড়ি চলে যাবে, আজগর তাকে পাঠিয়ে দিল যমের বাড়ি। প্রথমে মেয়েটির গলার টুটি চেপে ধরে,বিছানায় শুইয়ে বাম হাত দিয়ে বালিশ দিয়ে মেয়েটির নাকে মুখে চেপে ধরে। নড়াচড়া করছে দেখে দুই পা দিয়ে হাত ও বুকের উপর উঠে বসে। প্রায় ৫/৭ মিনিট এভাবে ধরে রাখে। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে মেয়েটিকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে বাথরুমের টাইলসের সাথে মাথা থেতলে দেয়। সকালে বাথরুমে পড়ে গিয়েছে বলে চালিয়ে দেয়। সবই পরিকল্পনা মোতাবেক চলছিল। বাদ সাজে বেরসিক পুলিশ। চারপাশে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হওয়ার কাহিনী ছড়িয়ে দেয় আজগরের ভাবি মুন্নি। যার সাথে আজগরের অনৈতিক সম্পর্ক শিবলী আচঁ করতে পেরেছিল। শিবলী মাকেও তা জানায়। শিবলীর মা শিবলীকে ধৈর্য্য ধারন করতে বলে। কাল আজগরকে ও তার ভাবীকে গ্রেফতার করে এবং আজ বিজ্ঞ আদালতে আজগরের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা। কি স্বাবলীল স্বীকারোক্তি, বিন্দু মাত্র অনুতাপের ছাপ নেই আজগরের চোখে মুখে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করে সমান্য লেখনীর মাধ্যমে নিজেকে একটু হালকা করার চেষ্টা করলাম।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

লেখকঃ শাহাদাত হোসেন
ওসি (তদন্ত)
পাঁচলাইশ থানা, চট্টগ্রাম

মন্তব্য করুন

comments