শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রনে পুরো শহরের ট্রাফিক

47
শেয়ার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করার পরেও রাস্তায় নেমেছে আজ শিক্ষার্থীরা।শুধু নেমেছে তাই নয়,প্রায় প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স চেক করা সহ পুরো শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করেছে আজ তারা।এমনকি পুলিশকেও ছাড় দেননি শিক্ষার্থীরা।সকাল থেকেই পুরো নগর জুড়ে দেখা গেছে আজ এই দৃশ্য।

সকাল থেকেই দলে দলে ইউনিফর্ম পরে রাস্তায় নামার পর বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।এসময় তারা গাড়ির লাইন ঠিক করে দেয় এবং কিছু জায়গাতে রাস্তা মেরামতের কাজেও নামতে দেখা গেছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (০২ আগস্ট)সকাল থেকেই চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে এই দৃশ্য। এসময় অনেককেই শিক্ষার্থীদের এই কাজের জন্য বাহবা দিতে দেখা গেলেও অনেককে আবার জ্যামে আটকা পড়ে ভোগান্তির কারণে সমালোচনা করতে দেখা গেছে তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর গোলপাহাড় মোড়, দামপাড়া, ওয়াসা, দেওয়ানহাট মোড়, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট মোড় সহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে লাইসেন্স চেক করা সহ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করছিলো শিক্ষার্থীরা।এসময় অনেকের হাতে ছিলো প্ল্যাকার্ড এবং অনেকেই স্লোগান দিয়ে উজ্জীবিত করছিলো অন্যদের।তারা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ সহ নয় দফা দাবি জানায় এবং দাবি মানা না হলে আন্দোলন চলবে বলে জানায়।

বিকেল ৩টার দিকে নগরীর দামপাড়া এলাকাতে গাড়ী চেক করার সময় আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানান,নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি ঢাকার মত আমরাও একইভাবে চট্টগ্রামে আন্দোলন করছি। গাড়ির লাইসেন্স চেক করতে গিয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি চট্টগ্রামের প্রায় ৪০ ভাগ গাড়ি চালকের লাইন্সেস নেই। এসব গাড়ির চাবি নিয়ে আমরা দায়িত্বরত পুলিশের সার্জেন্টকে ব্যবস্থা নিতে দিয়েছি।

তিনি জানান,যদি সড়কে ট্রাফিক পুলিশেরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো, তাহলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যেতো।

টাইগারপাস মোড়েও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী চার-রাস্তার মোড়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় সকল গাড়ি থামিয়ে চালকের লাইন্সেস চেক করতে দেখা গেছে। পাশেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছেন পুলিশের সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা।

দেওয়ানহাট ওভারব্রীজের উপরে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা এক সিএনজি ড্রাইভার জানান, মানুষ মেরেছে বাসওয়ালারা, আমরা কি দোষ করেছি, আমাদেরকে হয়রানি কেন করা হচ্ছে, আজকে তেমন ভাড়াও মারতে পারিনি, ওভারব্রীজেই আটকে পড়ে আছি এক ঘন্টা ধরে।

মন্তব্য করুন

comments