X

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ-সেনাবাহিনী চুক্তি সম্পন্ন

অবশেষে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। সিডিএ’র পক্ষে তত্বাবধায়ক প্রকৌসলী হাসান বিন সামশ্ ও সেনাবাহিনীর পক্ষে ডিজিএফআইয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আদিল চৌধুরি এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ সিটি করপোরেশনের ‘সহযোগিতা’ কামনা করেন। জবাবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির ‘শতভাগ সহযোগিতা’র আশ্বাসও দিয়েছেন।

গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথমদিকে কথা ছিল প্রকল্পের আওতায় ৩৬ খাল পুনঃখনন করা হবে। পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ডিপিপি সংশোধন করা হয়। এতে উল্লেখ রয়েছে ৫৭ খাল ও ছড়া পুনঃখনন করা হবে। তখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ইতিমধ্যে মার্চের শুরুর দিকে সরকার প্রকল্পের অনুকূলে প্রাথমিক বরাদ্দ হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে।

পরবর্তীতে ১০ মার্চ মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় চলতি বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৬টি খাল পুনঃখনন করা হবে। কাজগুলো হবে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সহায়তায়। মনিটরিং কমিটির সভায় আরএস শিট অনুযায়ী খালের উভয় পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রাথমিকভাবে খাল ও নালাগুলো সংস্কার কাজ দ্রুত করার সিদ্ধান্ত হয়।

শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন পাওয়া মেগা প্রকল্পে ৩৬টি খাল খনন-পরিষ্কারের কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৫৭ খাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ১৬টি খাল সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। এরমধ্যে এবছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল- ১, ২, ৩, মহেশ খাল, মীর্জা খাল, হিজড়া খাল, মরিয়ম খাল, খন্দকিয়া খাল, ডোমখালী খাল, বালুখালী খাল, নাসির খাল, চাক্তাই ডাইভারশন খাল, জামালখান খাল, ফিরিঙ্গীবাজার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকশানা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন

comments