অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে এ নগরী: মেয়র

29
শেয়ার

হকার ও দোকানিরা অবৈধ দখলের ফলে রাস্তার পুরোপুরি ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মত দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘হকার ও দোকানিরা ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে আছে। গাড়িচালকরা মালিকের চেয়ে শক্তিশালী। এর ফলে যানজটের সৃষ্টি। অন্যদিকে, খাল দখল করছে বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিক। নগরীতে পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এককথায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে এ নগরী। আমরা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফল ভোগ করছি।’

আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে শুক্রবার (৬ এপ্রিল) ‘নান্দনিক’আয়োজিত তৃতীয় নান্দনিক চট্টগ্রাম সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘চট্টগ্রামের পরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা।’ নান্দনিকের সভাপতি তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম।

শুরুতে মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরে যানজটের বিভিন্ন কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরে মেয়র ও সিএমপি কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শিক্ষার্থীরা যানজট নিরসনের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, খাস্তগীর ও বাওয়া’র মতো স্কুলগুলোকে নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর জন্য বাধ্য করা, পাঠ্যসূচিতে ট্রাফিক আইন অন্তর্ভুক্ত করা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক গাড়িচালক নিষিদ্ধ করা, ধুলোবালি মুক্তকরণে ব্যবস্থা নেওয়া, ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর রাখা, শব্দদূষণ রোধ, ফুটপাত হকারমুক্ত করার জানান।

এরপর মেয়র বলেন, ‘কথা বলা সহজ, কিন্তু কাজ করা ও বাস্তবায়ন করা কঠিন। বিশেষ করে যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের আইনের কাঠামোতে থেকে কাজ করতে হয়। আমার অর্থ ও সময় আছে কিনা? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনুমতি দিচ্ছে কিনা? এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সদিচ্ছা থাকলেও পারি না।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য সিগনাল লাইটের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় বলেছে, এ প্রকল্পটি ট্রাফিক বিভাগ থেকে আসতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব বাস চালুর জন্য বাধ্য করা এবং নগরীর রাস্তা চলাচলকারী সব বাসকে একটি ছাদের তলায় আনতে মেয়রের কাছে অনুরোধ জানান সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বিশ্বমানের বন্দরের জন্য বিশ্বমানের শহর আবশ্যক। নগরীতে প্রতিদিন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ট্রাক ঢোকে। অথচ এদের জন্য কোনো টার্মিনাল নেই। এটাই যানজটের প্রধান কারণ।’

দখলের কারণে ২০ ফুটের মধ্যে মাত্র ৭ ফুট রাস্তা ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশলী আলী আশরাফ।

নগর পরিকল্পনাবিদ সুভাষ বড়ুয়া বলেন, ‘পথচারীদের জন্য ফুটপাত লাগবে। ফুটপাতের জন্য কমপক্ষে ১ দশমিক ৮ মিটার জায়গা রেখে রাস্তার ডিজাইন করতে হবে।’

রিকশা ও প্রাইভেটকার বেশি জায়গা দখল করে। ফলে যানজট কমানোর জন্য গণপরিবহন তথা বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান, মানবাধিকার সংগঠক আমিনুল হক বাবু, রিহ্যাব সদস্য আব্দুল গাফফার মিয়াজী, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের উপদেষ্টা অভীক ওসমান, র‌্যাংকস প্রোপার্টিজের সিইও তানভীর শাহরিয়ার রিমন, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আবু তালেব সানজু, কারিকা’র বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, সিসিএলের পরিচালক শ্যামল কুমার পালিত, নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সজিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিমাদ্রী শিখর, এনায়েতুল করিম, আবু সাঈদ, নুসরাত তাবাচ্ছুম, উম্মে খাদিজা, রুমানা আক্তার শান্তা, শরিফুল আলম প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

comments