X

‘ধর্মান্তরিত’ হয়েও শেষ রক্ষা হলোনা প্রদীপের

চার বছর আগে ছিনতাই করতে গিয়ে কিশোর আলাউদ্দিনকে খুন করে প্রদীপ চৌধুরী। এরপর গ্রেফতার এড়াতে সে ‘ধর্মান্তরিত’ হয়। পালিয়ে চলে যায় ঢাকা।

দুই বছর এ মামলার তদন্তের পর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ার অজুহাতে প্রদীপের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। আদালত চার্জশিট গ্রহণ না করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এর দুই মাসের মাথায় গত সোমবার রাতে ঢাকার মধ্যবাড্ডার ভূঁইয়া বাড়ি এলাকা থেকে আল আমিন ওরফে প্রদীপ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। সে হাটহাজারী উপজেলার আলীপুর গ্রামের ধোপাপাড়ার নিরঞ্জন চৌধুরীর ছেলে।

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩ মার্চ বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার বড় মিয়া বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন। এ ঘটনায় পরদিন বাকলিয়া থানায় মামলা করেন তার মা আলেয়া বেগম। শুরুতে মামলাটি দুই বছর তদন্ত করে থানা পুলিশ। এরপর দুই বছর তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৮ জানুয়ারি দু’জনকে আসামি করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে তারা। সঠিক নাম-ঠিকানা ‘না পাওয়ায়’ পলাতক আসামি হিসেবে প্রদীপকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক (জনসংযোগ) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, গ্রেফতার এড়াতে ধর্মান্তরিত হয় প্রদীপ চৌধুরী। নাম গ্রহণ করে আল আমিন। বিয়েও করে মুসলিম পরিবারে। এরপর ঢাকায় গিয়ে মুদির দোকানে চাকরি নেয়। মা-বাবার সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ রাখেনি সে। আদালতের নির্দেশের পর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইর পরিদর্শক জাহিদ হোসেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রদীপকে শনাক্ত করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments