নগরীতে স্কুলছাত্রকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবি;৪ কিশোর গ্রেপ্তার

668

চট্টগ্রামে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নগরীর সদরঘাট এলাকা থেকে অপহরণের ৫ ঘন্টা পর মেহেদী হাসান মিসকাত নামে ১২ বছরের এই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মিসকাত সদরঘাট থানাধীন মাদারবাড়ি সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

শনিবার রাতে স্কুল থেকে ফেরার পথে চার কিশোর তাকে ডেকে কলেজিয়েট স্কুলের পশ্চিম পাশে ঝোপে নিয়ে যায়। সেখানে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে মিসকাত অজ্ঞান হয়ে পড়লে মারা গেছে মনে করে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। রাত পৌনে ১১ টার দিকে আহতাবস্থায় বাড়ি ফিরেন মিসকাত। এরই মধ্যে টেলিফোনে তার মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর মিসকাতের বাবা সদরঘাট থানায় অভিযোগ করেন।

মেহেদীর পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ভোর রাতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদারবাড়ি বালুরমাঠে ডেকে আনে পুলিশ। সেখানে তাদের তিনজনকে আটক করে ফেলা হয় পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাঈনকে দুপুরে মাদারবাড়ি এলাকার তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মুক্তাদির রহমান, শাকিল, এ আল কিবরিয়া ও শাহিদ আজ-মাঈন। এদের মধ্যে মুক্তাদির সেন্ট্রাল পাবিলক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবছর দ্বিতীয়বার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শাকিল নগরীর ইসলামীয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষ, কিবরিয়া সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষ ও শাহিদ রেলওয়ে বহুমুখী স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।

সদরঘাট থানার ওসি নেজামউদ্দিন জানান, শনিবার স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘ডে কেয়ার শাখার’সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান মিসকাতকে অপহরণ করে চার কিশোর। মারধর করার পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ফেলে চলে যায়। পরে পরিবারে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি থানায় অভিযোগ করে মিসকাতের বাবা। পরে অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে আটক করা হয়।

রাত পৌনে ১১ টার দিকে মেহেদী আহত অবস্থায় বাসায় ফিরে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “মেহেদীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলা রয়েছে। এসময় সে তাকে ‘অপহরণ’ করে মারধর করার কথা জানায়। মেহেদীর গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টারও দাগ আছে।

মন্তব্য করুন

comments