X

হঠাৎ পরিবহন সংকটে চট্টগ্রাম

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই ) থেকে পরিবহনে শৃঙ্খলা বাড়াতে প্রশাসনের অভিযান শুরু হয়েছে নগরজুড়ে। এ অভিযান চলবে ২২ই জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে অভিযানে আটক হয়েছে ৩০০ এরও বেশি গাড়ী। ধরপাকড়ের ভয়ে রাস্তায় নামছেনা বাস, ট্রাক, টেম্পু, ট্যাক্সি সহ বিভিন্ন পাবলিক পরিবহনগুলো। এতে করে হঠাৎ পরিবহন সংকটে পড়ে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। শৃঙ্খলা ফিরে আসার দৃশ্য দৃশ্যমান না হলেও দৃশ্যমান হয়েছে নগরজুড়ে মারাত্বক পরিবহণ সংকটের চিত্র।

গতকাল বুধবার সারাদিনও এই পরিবহন সংকটের চিত্র দেখা গেছে নগরজুড়ে।

সিএমপি ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানা যায় গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, রোড পারমিট, ইন্সুরেন্সসহ পরিবহনে শৃঙ্খলা বাড়ানোর জন্য চলমান অভিযান চলবে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত।

এই অভিযানের প্রতিবাদে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী সড়কে পরিবহন শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় এবং সবধরণের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

মুহুর্তে নগরীর বিভিন্ন রুটে গাড়ির সংখ্যা কমে যায়। বিশেষ করে অফিস ফেরত হাজার হাজার যাত্রী বাস ও টেম্পো না পেয়ে সিএনজি ট্যাক্সি ও রিকশায় গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়। অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে অপারগ যাত্রীদের পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরতে হয়।

উপ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মো. সুজায়েত ইসলাম জানান, “রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া মোড়ে মোড়ে এবং যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, নির্ধারিত রুট অমান্য করা, ভুয়া লাইসেন্স কিংবা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানোসহ নানা অনিয়ম বন্ধে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ২২ জুলাই পর্যন্ত চলবে”।

তিনি জানান, “রুট পারমিটবিহীন গাড়ি পাওয়া মাত্রই জব্ধ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় ধরা পড়া এ ধরণের যানবাহন তিনদিন আটকে রাখা হবে। এরপরও যদি একই যানবাহন রাস্তায় চলাচল করে তাহলে এক সপ্তাহ আটক থাকবে। তৃতীয় দফায় ধরা পড়লে ওই যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে”।

তিনি আরো জানান, “মোড়ে মোড়ে ও যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর অপরাধে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। আর অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।রাস্তায় গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কোন ছাড় দিবে না। সকল অনিয়ম রোধে আমরা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিব। গতকাল থেকে চলমান পাঁচদিনের অভিযানে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে- রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ, মোড়ে মোড়ে ও যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো, এক রুটের গাড়ি অন্য রুটে চলাচল বন্ধ করা”।

 

মন্তব্য করুন

comments