চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ;পুলিশের লাঠিচার্জ

42
শেয়ার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরীর অব্যাহতির দাবিতে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগের এক অংশের নেতাকর্মীরা।

মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অভিযানের সময় মো.আলী আজগর চৌধুরী বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধর করার অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, ঘুমন্ত ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই তার অব্যাহতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছি।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল স্টেশনে থাকা শাটল ট্রেনের হুইস পাইপ কেটে দেয় ছাত্রলীগ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অচল হয়ে পড়ে।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখি বাস চলাচলেও বাধা দেয় ছাত্রলীগ।

এদিকে চবি ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইটে তালা দেওয়ায় লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর ছাত্রলীগ কর্মীরা।

মঙ্গলবার(২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা সাংবাদিকদের বলেন, অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। তালা খুলে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা খুলেনি। তাই তাদের সরিয়ে দিয়ে তালা ভেঙে ফেলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়েরর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহসিন মিয়া বলেন, অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ দপ্তরে গিয়ে অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার সংঘর্ষের পর মধ্যরাতে তিন হলে অভিযান চালিয়ে দুটি এলজি, রামদা ও পাথরসহ কয়েক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এতে ছাত্রলীগের একটি অংশ ঘুমন্ত ছাত্রদের ওপর হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর অব্যাহতি চেয়ে অবরোধে ডাক দেয়।

এর আগে মঙ্গলবার ভোটে নগরীর বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হুইচপাইন কেটে দেয়। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী।

সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের এক নায়েকসহ পাঁচজন আহত হন। পরে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন হলে অভিযান চালিয়ে দু’টি এলজি, রামদা ও পাথরসহ কয়েক বস্তা দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

ছাত্রলীগের ওই দুই পক্ষের মধ্যে একটি গ্র্রুপ প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। অন্য পক্ষটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মন্তব্য করুন

comments