রাঙ্গুনিয়ার সেই সাবেক এমপি আর নেই

56
শেয়ার

অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ আর নেই। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে মোহাম্মদ ইউসুফের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সাবেক এই এমপির অসুস্থতা ও মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে মোহাম্মদ ইউসুফের চিকিৎসার দায়ভার নেন তিনি। পরে ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকে) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া কলেজে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন মোহাম্মদ ইউসুফ। পরে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই এনডিপির প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ ইউসুফ। এর মধ্য দিয়ে ’৭৫ এর পর রাঙ্গুনিয়ায় প্রথমবারের মতো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। ধস নামিয়েছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাম্রাজ্যে। তিনি সংসারি না হয়ে অবিবাহিত অবস্থায় কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের পুরোটা সময়।

১৯৭৩ সালে কর্ণফুলি পাটকলে কেরানী পদে চাকরি দিয়ে মোহাম্মদ ইউসুফের কর্মজীবন শুরু। আজীবন শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ ইউসুফ ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ইউসুফের শরীরের একাংশ অবশ হয়ে যায়। এরপর আরও নানা ব্যধি তার দেহে বাসা বাঁধে। সম্প্রতি তার পায়েও পচন ধরেছিল। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতায় তার চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সহায়তার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহই প্রথম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এ এমপির সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়ম নগরে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরায় অক্ষম ও বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

মন্তব্য করুন

comments