‘বড় অপরাধে’ যাচ্ছিল পুলিশকে গুলিবর্ষণকারীরা

903
শেয়ার
রাকিব, প্রত্যয় ও অভি

চট্টগ্রামে এসআইয়ের ওপর গুলিবর্ষণকারীরা বড় ধরনের অপরাধ করতে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশ বলেন, “ছিনতাই বা বড় কোনো অপরাধ করতেই তারা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল।তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আর জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি বলেন, ‘সিভিল এবং ইউনিফর্ম পড়া মিলিয়ে ১০ জনের টিম ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল। তিনটি মোটর সাইকেলে করে ১০ জন দুই নম্বর গেইটের মোড় অতিক্রম করে মুরাদপুরের দিকে যাচ্ছিল। কর্তব্যরত পুলিশের সন্দেহ হলে সেটি থামার সংকেত দেন তারা। এসময় একজন গুলি ছুঁড়ে।গুলিবর্ষণের পর একটি মোটর সাইকেল ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ধাওয়া দিলে আরেকটি মোটর সাইকেল কয়েক গজ দূরে ফেলে যায়। এসময় হাকিমকে পুলিশ ধরে ফেলে। আরেকটি মোটর সাইকেল মুরাদপুর এলাকায় পার্ক করে তারা পালিয়ে যায়। পরে সেটিও আমরা উদ্ধার করেছি। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা ও এক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ’

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো.আব্দুল হাকিম অভি (১৯) নামে একজনকে আটক করেন। এরপর রাতে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জোবায়ের হোসেন প্রত্যয় (১৭) এবং মাঈনুদ্দিন ফরিদ প্রকাশ রাকিব (১৭) নামে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ।

তাদের মধ্যে প্রত্যয় এবার নগরীর কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায়। বাসা মুরাদপুর জলিল বিল্ডিং গলিতে।তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন।তিনি একজন ব্যবসায়ী।

গ্রেপ্তার রাকিব নাসিরাবাদ বয়েজ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার বাবা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার আ ন ম ফরিদ উদ্দিন ফরহাদ। আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরা দোভাষীবাজারে তাদের বাড়ি। বাসা নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৫ নম্বর সড়কে।

অভি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক মো.ইউনূসের ছেলে। নগরীর চশমাহিলের মেয়র গলিতে তাদের বাসা।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আমাদের ধারণা ইতোপূর্বেও তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, যা পুলিশের নজরে আসেনি।আমাদের কাছে এ ঘটনায় আরও কিছু তথ্য আছে। হামলাকারীদের সবাই উঠতি ও কিশোর বয়সী সন্ত্রাসী। কিশোর অপরাধের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এটি তার প্রতিফলন। হামলাকারীদের অনেকেই মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। নিম্ন পরিবারসহ কিছু কুচক্রী মহলের সাথে মিশে তারা অপরাধ জগতের দিকে পা বাড়াচ্ছে।”

হামলার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে ওয়ারিশ জানান।
আটক তিজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। মহানগর হাকিম আল ইমরান অভিকে কারাগারে এবং বাকি দুজনকে বয়স বিবেচনায় সেফহোমে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর।

গুলিবিদ্ধ পাঁচলাইশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল মালেক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মন্তব্য করুন

comments