X

মহিউদ্দিন চৌধুরীই চট্টগ্রামের একক নেতা ছিলেন: আমু

সদ্য প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে যারা ভুল বুঝেছিল তার মৃত্যুর পর তাদের ভুল ভেঙ্গেছে মন্তব্য করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীই ছিলেন চট্টগ্রামের একক নেতা। চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের নেতা।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতি আঁকড়ে ধরে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তার বিচরণ ছিল। এর মধ্য দিয়ে মানুষের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে এ শোক সভার আয়োজন করে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দুই দুই বার ক্ষমতায় থাকলে ষড়যন্ত্র কমে না না বরং আরও বাড়ে। দেশের যারা শত্রু শেখ হাসিনা তাদের চক্ষুশূল। শেখ হাসিনাকে যে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে তা ব্যক্তিগত কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে।

বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত যে শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল সেই অপশক্তি এটা চায় না। তারা চায় শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিতে।

নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দল ও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, যে জাতীয় স্বার্থের বেলায় আমরা একে অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন,‘এই মনোবৃত্তি অবশ্যই সবাইকে পরিহার করতে হবে। শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা এবং তার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে। সবকিছু ভুলে গিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে আগামী একটি বছর আমাদের কাজ করতে হবে।’

চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত তা শান্ত করার মত যোগ্য মহিউদ্দিনপুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের রয়েছে মন্তব্য করে আমির হোসেন আমু বলেন, আমি আজ নওফেলের বক্তব্য শুনলাম। তার কথা শুনে আমার ভাল লেগেছে।

নেত্রী তাকে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানকার যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, এখানকার যে পরিস্থিতি- শান্ত করবার মত একটি লোক আপনারা পেয়েছেন। পরিস্থিতি ঘোলা না করে শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু সমাধান করবার মানসিকতা, চিন্তা চেতনা তার রয়েছে।

তিনি বলেন,‘আমি চাই শুধু নওফেল নয়, আপনারা সবাই মহিউদ্দিন চৌধুরী হন। কেবল চট্টগ্রামের স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থও রক্ষা করুন।’

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রিয় নেতা আখ্যায়িত করে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, তৃণমূল থেকে কর্মী তৈরি করেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মেয়র বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের অভিভাবক। এ পদ কেউ তাকে দয়া করে দেয়নি। নিজের যোগ্যতা ও বিচক্ষণতা, দলের দুঃসময়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাতেই এ পদ অর্জন করেছেন। এটি অনেকের জন্যই অনুকরণীয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী দলের পক্ষ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নগর কমিটির প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, যুগ্ম সম্পাদক এম এ রশিদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, শ্রমিক লীগ সভাপতি বখতেয়ার উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মশিউর রহমান চৌধুরী, যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য করুন

comments