X

পটিয়ায় মাইক্রোবাস চালক হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাঞ্চল্যকর মাইক্রোবাস চালক আবদুল হাকিম(৫৫) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পটিয়ার পাশ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম কেশুয়া এলাকার হারুনুর রশিদের ছেলে মাইনুর রশিদ তামিম (২১) ও পাবনা জেলার সাতিয়া থানার আটিয়া পাড়া গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০)।

তানিম নগরীর বহদ্দারহাট উদ্দীপন পলিটেকনিট ইনিষ্টিটিউটে ভোকেশনাল কোর্সে এবং সাব্বির বাকলিয়া দেলোয়ার জাহান মেমোরিয়াল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করে। দুজনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম শহরের বাইরে হলেও তারা বহদ্দারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে।

গতকাল সোমবার দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, তামিমকে চট্টগ্রাম শহর থেকে এবং সাব্বিরকে পাবনা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। পরে দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় এ ২ জনসহ মোট ৭জন জড়িত বলেও তারা পুলিশকে জানিয়েছে।

ওসি শেখ নেয়ামত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, চালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী মহসিন ও শরীফ। চালকদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক দফা তাঁরা গাড়ি বদলান। শেষে চট্টগ্রাম জেলখানা রোড এলাকা থেকে চালক আবদুল হাকিমের গাড়িটি ১১ হাজার টাকায় ভাড়া করেন। গাড়িটি নিয়ে তাঁরা কক্সবাজার পৌঁছান। কক্সবাজার গিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টে রাত সাড়ে নয়টার দিকে গাড়িটি পার্ক করে সৈকতে তাঁরা কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করেন। ওখানে তাঁরা সাতজনে পরিকল্পনা করেন চালককে কোথায় কীভাবে হত্যা করবেন। আর শরীফ গাড়িটি বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুসারে, তাঁরা রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। পরে পটিয়ার আরও আগে এক নির্জন স্থানে মাইনুর রশিদ তামিম পেছন দিক থেকে চালক আবদুল হাকিমকে চাকু ধরে গাড়ি থামাতে বলেন। গাড়ি থামানোর পর সাব্বির হোসেন ও মাইনুর রশিদ চালককে তাঁর আসন থেকে টেনে ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় শাহীন গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নেন। এরপর আসনের নিচে শুইয়ে মাইনুর রশিদ ও মহসিন চালককে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় অন্য চারজন চালকের হাত-পা চেপে ধরে রাখেন। গাড়িতে রক্তাক্ত লাশ নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসার পথে পটিয়া পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। পরে লাশটি আসনের ওপর তুলে তাঁরা প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গাড়িটি চালু না হওয়ায় তাঁরা সাতজন গাড়ি ফেলে স্থানীয় এক বাসে করে নতুন ব্রিজ (শাহ আমানত সেতুর উত্তর পারে) এসে নেমে যান। চালকের মুঠোফোনটি মহসিন নিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া কোন এক নির্জন এলাকায় মাইক্রো চালককে জবাই করে হত্যা করে পৌরসদরের পোস্ট অফিস এলাকায় মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী দল। চালক হাকিমের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায়। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে রক্তমাখা তিনটি চাকু উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৩০ নভেম্বর পটিয়া থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।এ ঘটনায় নিহত চালকের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ ওই দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মন্তব্য করুন

comments