১৩শ কোটি টাকায় দুইটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ চসিকের

383
শেয়ার

নগরীতে দুটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।নগরীর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকার কূলগাঁও এবং টোল রোড এলাকায় দুটি বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।গত জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ১০ একর জমি কিনে ২৫ হাজার বর্গমিটারের ড্রেনেজসহ ইয়ার্ড নির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প ছক (ডিপিপি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে চসিক।

‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক ওই ডিপিপিতে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৩০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, দেশের প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রতিদিন হাজারো ছোট–বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি আসা–যাওয়া করে। বাণিজ্যিক শহরে ভারী যানবাহন আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এসব রাখার টার্মিনাল এখানে নেই। তাই তারা বাধ্য হয়ে সড়কের একাংশ দখল করে তাদের গাড়ি রাখতে বাধ্য হয়। কিন্তু, এভাবে তো চলতে পারে না। এই শহরে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুটি টার্মিনালের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পর্যায়ক্রমে বাকি টার্মিনালগুলোও নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশ যেহেতু এগিয়ে যাচ্ছে, বন্দরের লোড–আনলোড বেড়েছে, নগরীর মানুষ বেড়েছে, পণ্যবাহী–যাত্রীবাহী গাড়ি বেড়েছে। তাই টার্মিনাল বাড়ানোও দরকার।

এই মাসেই প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের সভায় উঠবে। আগামী জুনের মধ্যে এটি একনেকে অনুমোদিত হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করেন তিনি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর পরিবহন খাতে যেমন শৃঙ্খলা আসবে, তেমনি নগরবাসীও যানজট ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস-ট্রাকের জন্য প্রয়োজনীয় টার্মিনাল না থাকাটা এ নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা । পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে টার্মিনাল গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আমরা দুটি টার্মিনালের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পর্যায়ক্রমে বাকি টার্মিনালগুলোও তৈরি করা হবে।

আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মুনির আহমদ বলেন, চট্টগ্রামে টার্মিনাল সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বন্দরের লোড-আনলোড বেড়েছে, নগরীর মানুষ বেড়েছে, পণ্যবাহী-যাত্রীবাহী গাড়ি বেড়েছে কিন্তু টার্মিনাল বাড়েনি। বহদ্দারহাট ও শুভপুর-কদমতলিতে বাস টার্মিনাল থাকলেও বন্দর এলাকায় দুটি ছোট ট্রাক টার্মিনাল ছাড়া নতুন করে আর কোনো টার্মিনাল গড়ে উঠেনি। ফলে মাদারবাড়ি থেকে শুরু করে কদমতলি এলাকা, বিমানবন্দর সড়ক, পিসি রোডসহ বিভিন্ন সড়কের ওপর গাড়ি রাখতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। টার্মিনাল নির্মাণের দাবিটি এখন পুরোনো হলেও এখন বেশ জোরালো হয়েছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের।

চিটাগাং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী সাড়ে তিন থেকে চার হাজার গাড়ি প্রতিদিন আসা-যাওয়া করলেও প্রয়োজনীয় টার্মিনাল গড়ে উঠেনি। এটি বাস্তবতা। গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বন্দর চেয়ারম্যান চিটাগাং চেম্বারের উৎসবে আগামী ঈদের আগেই বন্দরের উদ্যোগে টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে চসিকও দুটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আশাকরি, এবার সব দীর্ঘসূত্রতার অবসান হবে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নগরীর অভিভাবক মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল টার্মিনাল নির্মাণের। সর্বশেষ আমরা প্রয়োজনীয় হোম ওয়ার্ক শেষে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশাকরছি আগামী জুনের মধ্যে এটি একনেকে অনুমোদিত হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। এটি হলে নগরীর পরিবহন খাতে যেমন শৃঙ্খলা আসবে তেমনি নগরবাসীও যানজট, দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

মন্তব্য করুন

comments