চরম সংকটের কবলে চট্টগ্রাম বন্দর; হারিয়েছে গতি

59
শেয়ার
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবিঃ সংগৃহিত

১৩০ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম বন্দর তার গতি হারিয়েছে। জাহাজ ও কন্টেইনার জটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। নানান সমস্যায় জর্জরিত ধুকছে দেশের আমদানি-রাপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র এই সমুদ্র বন্দর।

পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতারা। নৌপরিবহনমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান শাজাহান খান এতে উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের এমন ক্ষোভের মুখে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটি এবং বহির্নোঙরে ৬০ থেকে ৭০টি জাহাজের অবস্থান থাকলেও বর্তমানে ১০০ জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে গড়ে ১৭টির মতো জাহাজ অপেক্ষা করছে বহির্নোঙ্গরে। পণ্য খালাসের জন্য জেটিতে ভিরতেই, যেগুলোর সময় লাগছে ন্যূনতম ১২দিন। আর এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবাসয়ীরা। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে হাজির হয়েছে, বিদেশি কোম্পানির জাহাজে কন্টেইনারের পণ্য পরিবহনের বাড়তি খরচ। এজন্য এক মাসেই অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৮০ কোটি টাকার বেশি।

বৈঠকে বন্দরে জটের কারণে মোটা অঙ্কের টাকা গচ্চা, রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব, ক্রেতাদের বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা। এরইমধ্যে ক্রয়আদেশ বাতিল করেছেন অনেকে বিদেশি ক্রেতা। যার নেতিবাচক পড়ছে রপ্তানিতে। দেশের তৈরি পোশাক খাতে এ জটের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৩৬ হাজার ৩৫৭টি ধারণক্ষমতার এ বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বর্তমানে কন্টেইনার রয়েছে সাড়ে ৩৬ হাজার। নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্রপাতি চলাচলের জন্য ধারণক্ষমতার অন্তত ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। কিন্তু তা মানা সম্ভব হচ্ছে না কন্টেইনারের মাত্রাতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে।

বন্দরে হ্যান্ডেলিয়ের যন্ত্র নষ্ট থাকায়, জাহাজ ও কন্টেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে জাহাজের পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায়। এজন্য ব্যবসায়ীরা যতদ্রুত সম্ভব, সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন হ্যান্ডেলিং যন্ত্র সংগ্রহ করা দীঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। তাই শিগগিরই এটি করা যাবে না।

কনটেইনারজট শুরু হয়েছে গত মাসে। ঈদের ছুটি, ব্যাপক হারে পণ্য আমদানি এবং লাগাতার প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ভয়াবহ জট তৈরি হয়েছে। ঈদের আগে ব্যস্ত সময়ে ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে আড়াই দিন বন্ধ ছিল বন্দরের কার্যক্রম। মোরার বিপর্যয় কাটিয়ে না উঠতেই দেখা দেয় নিম্নচাপ ও প্রবল বর্ষণ।

বন্দরের গতি বাড়াতে বন্দর সংশ্লিষ্টরা এর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দরকার।

মন্তব্য করুন

comments