চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত

30
শেয়ার

২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক। হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের ২৩ মে মৃত্যু হয় হিমুর।

পাঁচলাইশ এলাকার সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সদ্য ‘এ’ লেভেল পাস করা হিমুর বয়স তখন ১৮ বছর। স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠন শিকড়ের সদস্য ছিলেন হিমু। মূলতঃ মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণেই কুকুর লেলিয়ে হিমুকে হত্যা করা হয়।

পরবর্তিতে এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওন এই ৫ জনকে আসামী করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।

আজ রোববার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নূরুল ইসলাম এই ৫ জন আসামীর সবাইকে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। এদের মধ্যে শাহ সেলিম টিপু, শাহাদাৎ হোসাইন সাজু ও মাহাবুব আলী ড্যানি বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর দুই আসামি রিয়াদ ঘটনার পর থেকে এবং শাওন জামিনে গিয়ে পলাতক আছে। নিয়ম অনুযায়ী আসামিরা সাত দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে পলাতক আসামিদের সেই সুযোগ পেতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারের রায় শুনতে ওই আদালতে ভিড় জমে যায়। বিকেল ৪টায় বিচারক এজলাসে উঠেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ১৮ ফেব্রুয়ারী শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মাত্র তিন মিনিটেই দু’শ পৃষ্ঠারও বেশি লিখিত রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠ করে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক।

ছবিঃ উপরে হিমাদ্রী। নিচে বাম থেকে ডানে ১. শাহ সেলিম টিপু ২. জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ ৩. জাহিদুল ইসলাম শাওন ৪. শাহাদাৎ হোসাইন সাজু ও ৫. মাহাবুব আলী খান ড্যানি।

মন্তব্য করুন

comments