অবশেষে মায়ের কোল ফিরে পেলো শিশু

88
শেয়ার

রাউজানে সদ্য জন্ম নেয়া এক নবজাতক শিশুকে নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে নানা নাটকীয় কাহিনীর পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরে পেলো নবজাতকটি।

সিজার অপারেশনের মাধ্যমে জন্মের পর হাসপাতালে মায়ের সঙ্গেই ছিল নবজাতক শিশুটি। পাঁচদিন পর যখন মা-শিশুকে হাসপাতাল ছাড়পত্র দেয়, তখন প্রসূতি মা আর শাশুড়ির দ্বন্দ্বের জেরে দাদি মায়ের কোল থেকে টিকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।গত রবিবার রাত ১১টার সময় নবজাতক শিশুটিকে দাদির কাছ থেকে তার মায়ের কোলে তুলে দেন রাউজান থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরও।

থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘পুলিশের এস আই মহসিন ও এ এস আই মোর্শেদসহ ফোর্স নিয়ে রাত ১১টায় পশ্চিম গহিরায় গিয়ে দেখি পপির শাশুড়ির কোলে অর্থ্যাৎ দাদির কোলে নবজাতক শিশুটি। এ সময় আগে থেকেই খবর দিয়ে থানায় আনা পপি ও তার মাকে গহিরার শ্বশুর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সেখানে শত শত লোকের সামনে দাদির কোল থেকে মা পপির কোলে তার সন্তানকে তুলে দেয়া হয়। এ সময় পপির শ্বশুর বাড়িতে থাকার আগ্রহ না থাকায় নবজাতক শিশুটি নিয়ে চলে যায় বাপের বাড়িতে। এক পর্যায়ে দাদির কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।’

জানা যায়, রাউজান পৌর এলাকার গহিরাস্থ বড়ুয়া পাড়ার সুলাল বড়ুয়ার পুত্র প্রবাসী ছোটন বড়ুয়া গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রনয়সূত্রে আবদ্ধ হন পাশ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের কুল গ্রামের দীপাল বড়ুয়ার কন্যা পপি বড়ুয়ার সাথে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় পপি বড়ুয়ার স্বামী ছোটন বড়ুয়া ছুটি কাটিয়ে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার পর থেকে তার পরিবারে বউ-শ্বাশুড়ি দ্বন্ধ শুরু হয়।এই ঘটনার জের ধরে সন্তান সম্ভবা পপি পড়ুয়াকে তার পিতা দীপাল বড়ুয়া বাপের বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পপি বড়ুয়া শ্বশুর বাড়ীতে আসতে অনীহা প্রকাশ করে। পুত্রবধূকে শ্বশুরালয়ে নিয়ে যেতে ছোটন বড়ুয়ার মা একাধিকবার রাঙ্গুনিয়ায় গেলেও পুত্রবধু তার সাথে শ্বশুরবাড়ী গহিরায় আসতে রাজী হননি। এমতাবস্থায় সন্তানসম্ভবা পপি বড়ুয়াকে গত ২০ নভেম্বর চিকিৎসকের পরামর্শে ভর্তি করা হয় রাউজানের নোয়াপাড়াস্থ পাইওনিয়ার হাসপাতালে। ভর্তির তিনদিন পর গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন পপি বড়ুয়া।

ওসি বলেন, ‘স্ত্রীর সিজারের খরচসহ হাসপাতালের সবকিছু বহন করেছে প্রবাসী স্বামীর পরিবার। তাছাড়া বংশের প্রথম বাতি হিসেবে নবজাতক শিশুসহ পুত্রবধূকে তার বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইছিলেন পপির শাশুড়ি। কিন্তু পপি তাতে গোঁ ধরে উল্টো রাগ করে নাতনি নিয়ে যেতে বললে নাতনিকে নিয়ে চলে যান দাদি। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। রাউজান পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাদির কোল থেকে মায়ের কোলে নবজাতককে তুলে দেয়া কথা স্বীকার করেন।’

মন্তব্য করুন

comments