স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই আইনজীবি খুন

1273
শেয়ার

চট্টগ্রামে আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পিকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী রাশেদা বেগমসহ আটককৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানাবে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর খুলশী এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন।

আটক হওয়া বাকি পাঁচজন হলেন, হুমায়ূন রশীদ (২৮), আল-আমিন (২৮), মো.পারভেজ প্রকাশ আলী (২৪), আকবর হোসেন প্রকাশ রুবেল (২৩) এবং জাকির হোসেন প্রকাশ মোল্লা জাকির (৩৫)।

এদিকে আইনজীবির স্ত্রী রাশেদাসহ ছয় জনকে গ্রেফতারের পর বের হয়ে এসেছে নৃশংসভাবে খুন হওয়া আইনজীবি বাপ্পী খুনের নেপথ্যের সব ঘটনা।তার স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই খুন করা হয় আইনজীবী বাপ্পীকে। তার সঙ্গে হুমায়ুন ও অন্যরা অংশ নেন।মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বাপ্পীর স্ত্রী রাশেদা বেগম। দুই লাখ টাকা কাবিনে রাশেদা আর বাপ্পীর বিয়ে হয়। কাবিনের টাকা ১০ লাখ করতে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে রাশেদা তার কথিত ভাই হুমায়ুনকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন।সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই জোর করে কাবিনের টাকা বাড়িয়ে নিতে না পেরে স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই বাপ্পীকে খুন করা হয় বলে পিবিআইয়ের কাছে অকপটে সব স্বীকার করেছে বাপ্পীর স্ত্রী রাশেদা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৪ তে চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী ওমর ফারুক একটি মামলা পরিচালনা করার সময় আসামি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাশেদার সঙ্গে পরিচয় হয়। রাশেদা বেগমও মাদক মামলায় জেল খাটেন। পরে আইনজীবী বাপ্পির চেষ্টায় তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। পরে গতবছর আইনজীবী বাপ্পির সঙ্গে তাঁর গোপনে বিয়ে হয়। ছয় থেকে আট মাসের সংসার জীবনে দাম্পত্য কলহের জের ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে দুজন নগরীর দুটি থানায় মামলা করেন। মামলার জের ধরে আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পি মিথ্যা কাবিননামা তৈরি করে জামিনে আসেন বলে জানায় পুলিশ।সম্প্রতি বাপ্পীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবার মেয়ে খুঁজছিল। বিষয়টি শুনে রাশেদা সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, হুমায়ূনকে ভাই সাজিয়ে রাশেদা ২০ নভেম্বর বাকলিয়ায় কে বি আমান আলী রোডের বাসাটি ভাড়া নেয়। ওই বাসায় ঘটনার দিন (২৪ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বাপ্পী এবং রাশেদা ছিলেন। এসময় হুমায়ূন অন্য চারজনকে নিয়ে ওই বাসায় যান। বাসায় ঢুকে রাশেদার বুকে ছোরা ধরার নাটক করেন। তখন বাপ্পী চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা, মুখে টেপ লাগিয়ে দেয়। মুখে পানি ছিটানোর পরও জ্ঞান না ফেরায় হুমায়ুন বাপ্পীর কাছে থেকে স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায়। পরে বাপ্পীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়।

পিবিআই এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে জানালেও রাশেদা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, বাপ্পীকে খুনের কোন পরিকল্পনা তার ছিল না। বন্ধু হুমায়ূনের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে ভয় দেখিয়ে কাবিননামার টাকা ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করেছিল।

রাশেদা বলেন ,‘হুমায়ূন তিন বছর ধরে আমার বন্ধু। আমি তাকে বলেছি, বাপ্পীর জন্য তো মেয়ে খুঁজছে, আমি এখন কি করব ? তখন হুমায়ূন আমাকে পরামর্শ দিয়েছে কাবিননামার টাকা বাড়িয়ে নিতে পারলে বাপ্পী আমাকে মেনে নেবে। তখন আমরা বাপ্পীকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করি। ’

রাশেদা এবং হুমায়ূন ছাড়া বাকি চারজন সিইপিজেডে পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। বাপ্পীকে ভয় দেখানোর জন্য তাদের হুমায়ূন নিয়ে গিয়েছিল।তবে রাশেদা তাদের চিনতেন না বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈন উদ্দিন।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান,পরে রাশেদা বহদ্দারহাট এলাকায় তার বোনের বাসায় এবং পরদিন হুমায়ুনকে নিয়ে প্রথমে ঢাকায় তাদের এক বন্ধুর সাথে দেখা করে। কিন্তু সেখানে থাকা সম্ভব না হওয়ায় পরে কুমিল্লার মিয়ার বাজার চলে যায়। পরে সেখান থেকে রাশেদা ও হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাদের তথ্য মতে ইপিজেডসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় খুনের ঘটনায় অংশ নেয়া বাকি ৪ জনকে।

গত শনিবার সকালে নগরীর চকবাজার আমান আলী রোডের একটি ভবনের নিচতলার বাসা থেকে ওমর ফারুক বাপ্পির হাত-পা বাঁধা, শরীরের বিশেষ অঙ্গ কাটা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এই ঘটনায় বাপ্পীর বাবা বাদি হয়ে নগরীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য করুন

comments