৮টি চোরাই গাড়িসহ গাড়ী চোর চক্রের ০৪ সদস্য গ্রেফতার

189
শেয়ার

চট্টগ্রাম মহানগরী এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়ী চোর ও চোরাই গাড়ী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মোঃ ইউসুফ (৬০), লিটন সেন(৩৪) মোঃ হায়দার আলী (৩৪) এবং মোঃ নুরুল আলম (২৩)

এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি প্রাইভেট গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস এবং চারটি হাইএইস গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তারা অভিনব কৌশলে চোরাই গাড়ী সংগ্রহ ও বাজারজাত করে থাকে। নগরীর চোরাইগাড়ী সিন্ডিকেটের মূল হোতা জামালখান হেমসেন লেইনের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ মিন্টু ও তার সহযোগী পটিয়ার এয়াকুব দন্ডি এলাকার মোঃ শামছুল আলমের ছেলে মোঃ রাশেদুল আলম দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গাড়ি চোরদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে কম দামে চোরাই গাড়ি সংগ্রহ করে। পাশাপাশি তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনায় এবং পুড়ে বিনষ্ট হওয়া গাড়ীর চ্যাসিস এবং কাগজপত্র নাম-মাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে থাকে।

জানা গেছে, গ্যারেজ মেকানিক লিটন সেন দক্ষ কারিগর। সে চোরাই গাড়ির চ্যাসিসের যে অংশে চ্যাসিস নং থাকে সে অংশ বিশেষ কৌশলে কেটে পূর্বে থেকে সংগৃহীত বিনষ্ট হওয়া গাড়ির চ্যাসিসের বিশেষ অংশ কেটে চোরাই গাড়িতে লাগিয়ে দেয় এবং চোরাই গাড়ির ইঞ্জিন নাম্বার ঘষামাজা করে নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে দূর্ঘনায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া গাড়ীর কাগজপত্র চোরাইগাড়িতে চালিয়ে দিয়ে গাড়ীর কালার পরিবর্তন করে সাধারন মানুষের নিকট আসল বলে কক্সবাজার এলাকার মোঃ সালাহ উদ্দিন(৩২), মোঃ নূর আলম(৩৩) এর মাধ্যমে কক্সবাজার পাচার করে। এছাড়া মিন্টু ও রাশেদ মোডিফাই করা গাড়ী সরাসরি বিক্রয় করে থাকে।

আসামীদের এই অভিনব কৌশলের কারনে দীর্ঘদিন যাবৎ গাড়ি চুরি হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে জানায় পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের গাড়ি চোর প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিশেষ টীম-১ এর অভিযানে চাঞ্চল্যকর এই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। এর ফলে নগরীর গাড়ি চুরি রোধ হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments