বন্দরে লস্কর পদে নিয়োগ বাতিল না হলে আন্দোলনের ঘোষনা

740
শেয়ার

চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বন্দর পোষ্য ও স্থানীয় কোটা অধিকার রক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন। সোমবার বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে তারা নৌপরিবহনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছে। বলেছে, এই পদে নিয়োগ পাওয়াদের বেশিরভাগই মন্ত্রীর নিজ জেলার বাসিন্দা। তাই এই নিয়োগ বাতিলের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। না হলে কঠোর আন্দালন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

‘আমরা চট্টগ্রামবাসী’র ব্যানারে সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমাজকর্মী, পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ এবং বন্দরের লস্কর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বক্তব্য রাখেন।

কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুরের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় হয়ত মাদারীপুর জেলাকে বিভাগ আর চট্টগ্রাম বিভাগকে জেলা মনে করেছিলেন। আর এই বৈষম্যের কারণেই চট্টগ্রামের ছেলেরা নিয়োগ পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতির কাছে হেরে গেছে যার দায় ভার নিতে হবে মন্ত্রীকেই।

রনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, চট্টগ্রামের ছেলেরা জেলা কোটা অনুযায়ী যতটা চাকরির প্রাপ্য ততটা চাকরীই যেন তাদের প্রদান করা হয়। কোনো জেলার প্রতি বৈষম্য হোক তা আমরা চাই না। আমরা চাই এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে লস্কর পদসহ সকল পদের পরীক্ষা নেয়া হোক। এবং সরকারী নিদের্শনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের সকল নিয়োগ পরীক্ষা চট্টগ্রামেই নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

হাসান মনসুর বলেন, চট্টগ্রামের সন্তানদের, শুধু চাঁটগাইয়াদের বলছি না- চট্টগ্রামে বসবাসরত নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। অন্য যারা পাক অসুবিধা নাই। মাদারিপুরের যদি সাত জন পায় চট্টগ্রামে আমরা ৭৭ জন পাব। ১১টি জেলায় আমরা পেয়েছি মাত্র চারটি।

তিনি বলেন, এই এলাকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলের বিএ পাস করেও লস্করের চাকরি হয় না। মহানগর ছাত্রলীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন ছেলে লিখিত পরীক্ষায় টেকার পরও তাদেরকে বন্দরে চাকরি দেওয়া হয় নাই। কিন্তু পরে দেখি জামায়াত-বিএনপি পরিবারের সন্তানের কাছে চাকরি চলে আসে। আমাদের মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই, ন্যায় বিচার করুন।

এর আগে রোববার নৌমন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুরের চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, মেধার ভিত্তিতেই তার জেলার প্রার্থীরা ওই পদে চাকরি পেয়েছেন।মাদারীপুরের ছয় থেকে সাতজন মাত্র সুযোগ পেয়েছে আর চট্টগ্রামের পেয়েছে ৪৫ জন।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-হাজী জহুর আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক আব্দুল আহাদ, মহানগর শ্রমিক লীগের সাঃ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান এটলী, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী হাজি মো: হাসান, আবদুল মান্নান, চবি ছাত্রলীগ সা: সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন, মহিলা কাউন্সিলর ফেরদৌসি আকবর, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান আজিজ, মেজবাহ উদ্দিন মোরশেদ, আবদুর রহীম শামীম, জাকারিয়া দস্তগীর, রনি মির্জা, লায়লা আকতার এটলী, ইশরাত জাহান, ফাতেমা বেগম ছাত্রনেতা আমীর হামজা, রাহুল দাস, ইসমাইল হোসেন ও সাইদুর রহমান বাবু প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

comments