চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ

86
শেয়ার

বন্দর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিতভাবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবসম্মত উপায় বের করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

সচিবালয়ে রোববার ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই নির্দেশনা দেন।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একই ধরনের কাজের জন্য তিনটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।

তবে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ৯ অগাস্ট পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “চট্টগ্রাম মহানগরী দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। চট্টগ্রাম সচল থাকলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। এ শহরের জলাবদ্ধতা যে কোনো মূল্যে দূর করতে হবে।”

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত রূপরেখার উপর গুরুত্ব দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সমন্বয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান উপায় বের করতে হবে।”

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ‘একটি বাস্তবসম্মত ও সুপরিকল্পিত প্রকল্প’ আগামী ইংরেজি নববর্ষের আগেই চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী মোশাররফ।

তিনি বলেন, সিডিএ’র মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে তা বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পড়বে সিটি করপোরেশনের উপর। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের অংশগ্রহণ জরুরি।

চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় মধ্যে বাস করছেন উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এই জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবদিকে ভোগান্তি হচ্ছে। একটি টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এ সমস্যা দূর করা যাবে না।

“চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি ও জোয়ার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, সিডিএ’র মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সমাধান উঠে এসেছে। এখন পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে।

চট্টগ্রাম শহরে জোয়ারের পানির চাপকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পানি নিষ্কাশনের সময় শহরে যেন পানি প্রবেশ না করে সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জুয়েনা আজিজ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

comments