X

‘বাকলিয়া হবে একটি আধুনিক উপশহর’-আবদুচ ছালাম

নগরীর সিরাজুদ্দৌলা রোড থেকে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হলেই বাকলিয়াবাসীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

শনিবার(১১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় বাকলিয়া থানা চত্বর এলাকায় নগরীর যানজট নিরসন ও যোগাযোগ সহজীকরণে সিরাজউদৌলা রোড থেকে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত বহুল প্রতীক্ষিত ‘বাকলিয়া এক্সেস রোড’ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে শাহ আমানত ব্রিজ সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ২২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট প্রশস্ত এ দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে।

বাকলিয়া এক্সেস রোড বাস্তবায়িত হলে বাকলিয়াবাসী ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবানের মানুষ এই সড়ক দিয়ে যানজট এড়িয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে পারবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে আবদুচ ছালাম বলেন, বাকলিয়া এক্সেস রোডের নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাকলিয়াবাসী ৫ মিনিটে মূল শহরে আসতে পারবে। বাকলিয়া থেকে মূল শহরে যাওয়ার জন্য আগে ৭/৮ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হতো। এখন মাত্র দেড় কিলোমিটার পথেই যাওয়া যাবে। সময় লাগবে শুধুমাত্র ৫ মিনিট। বাকলিয়াবাসীকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। অনেকে ওয়াদা করেছে। ভোট শেষ হওয়ার পরে বাকলিয়াবাসীর পাশে ছিলেন না। পদে পদে প্রতারিত হয়েছে বাকলিয়াবাসী। বাকলিয়াকে নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনেও একটি সর্ববহৎ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। কর্ণফুলী তীর ঘেষে করা হবে একটি দৃষ্টিনন্দন সড়ক। সবকিছু মিলে বাকলিয়া হবে একটি আধুনিক উপশহর।

সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, চট্টগ্রাম তথা জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থ বিবেচনায় বাকলিয়াকে অন্ধকারে রাখার সুযোগ নেই। বাকলিয়াবাসীকে পুরো রাষ্ট্রের মধ্যে পরিচিত করতে আরো কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আইটি পার্ক করা হবে এখানে, নেভি বিশ্ববিদ্যালয় হবে, কল্পলোকে বিশ্বমানের মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এক্সেস রোডের পাশে হবে শিল্প-বাণিজ্য। সেখানে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানেরও।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাকলিয়া এক্সেস রোড নগরীর সিরাজুদ্দৌল্লা সড়কের চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পাশে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুকুরের পাড় ঘেঁষে ডিসি রোডের সাথে মিলিত হবে। ডিসি রোড থেকে বর্তমানে খালি পড়ে থাকা জায়গার উপর দিয়ে সোজা চলে যাবে শান্তিনগর মোড়ে। সেখানে একটি জংশন হবে। ওই জংশন থেকে ৬০ ফুট চওড়া বাকলিয়া এক্সেস রোড একটু উত্তর–পশ্চিম কোণে বেঁকে বগার বিল, সৈয়দশাহ রোড অতিক্রম করে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সাথে মিলিত হবে।

সিডিএ’র প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসের সভাপতিত্বে ও সহকারী অথররাইজড অফিসার মোহাম্মদ ওসমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সিডিএ‘র বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী শফিকুল ইসলাম, কাউন্সিলর একেএম জাফরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের
পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ ছগির, আবদুল করিম সওদাগর, ইয়াকুব সওদাগর, আবদুল মান্নান, সহকারী প্রকল্প পরিচালক কাদের নেওয়াজ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

comments