বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগ এর দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ

96
শেয়ার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ ১৩ জনসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে পৌরসদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের দেলোয়ারের মার্কেট এলাকায় বাঁশখালীর সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বিকেলে পৌরসভার সামনে আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভার আয়োজন করেন আবদুল্লাহ কবির লিটন। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে সভাস্থলে যাওয়ার পথে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা পৌরসভার অদূরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, “সভায় যাবার পথে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জনের মতো আহত হয় বলে জেনেছি। এদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।”

স্থানীয়রা জানায়, আবদুল্লাহ কবির লিটনকে ঠেকাতে বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অলি মিয়ার দোকান এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন এমপির অনুসারীরা। লিটন তার অনুসারীদের নিয়ে দেলা মিয়ার দোকান এলাকায় এসে আটকে পড়েন। এসময় উভয়দিক থেকে গুলিবিনিময় শুরু হয়।আগ্নেয়াস্ত্রের পাশোপাশি দুই পক্ষের কর্মীদের হাতে দা, কিরিচ, লোহার রডসহ দেশী অস্ত্র দেখা যায়। সংঘাত থামাতে সেখানে ছুটে যায় পুলিশ। দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।

আহতদের প্রথমে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে মোঃ জামাল হোসেন নামে একজন ইউপি সদস্য রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, তার বুকে ও পিঠে গুলি লেগেছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। রাতে মাহমুদুল ইসলাম (৩৫), রফিক উদ্দিন বাদশা (৪০), ওমর ফারুক (৩০) ও রাশেদ (২৬) নামে ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

মন্তব্য করুন

comments