গৃহকর নিয়ে নগর ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা

195
শেয়ার
ফাইল ছবি

ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর পুনর্নির্ধারণের দাবিতে আগামী ৪ ডিসেম্বর নগর ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর কদমতলীর আবুল খায়ের মেম্বর মার্কেট প্রাঙ্গণে এক সমাবেশ থেকে পরিষদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আমির উদ্দিন।

তিনি বলেন, ৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় নগর ভবন ঘেরাও করা হবে। তার আগে সকাল ১০টায় নগরীর বাসিন্দারা শহীদ মিনারে জড়ো হবেন।

নগর ভবন ঘেরাওয়ের আগে রোববার থেকে মাসব্যাপী ৪১টি ওয়ার্ডে অভিযাত্রা এবং ২ ডিসেম্বর কদমতলী থেকে মশাল মিছিল করা হবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়।

আগে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকরের হার নির্ধারণ করা হতো। চলতি অর্থবছর থেকে সিটি করপোরেশন প্রতি বর্গফুট হিসাবে কয়েকটি স্তরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গৃহকর আদায় শুরু করলে নগরবাসী আন্দোলনে নামে।

চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৯ অক্টোবর গৃহকর বিষয়ে অভিযোগহ নিয়ে আপিল শুনানি শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

১১ নভেম্বর পর্যন্ত আপিল করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার আপিল আবেদন জমা পড়েছে। পাঁচ দিনে ৬৭০টি আপিল শুনানিতে নিষ্পতি করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) হিসেব মতে, এই পাঁচ দিনে আপিল শুনানিতে অংশ নেওয়া আপিলে নির্ধারিত গৃহকর ছিল ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। শুনানি শেষে এই কর মূল্যায়নের পর গড়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে মোট দুই কোটি ২৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় নেমেছে।

আমির উদ্দিন বলেন, “৭০-৮০ শতাংশ ছাড়ে খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ অ্যাসেসমেন্ট এমনভাবে করা হয়েছে যে বড় ছাড় দেওয়ার পরও গৃহকর আগের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি।

“ভাড়ার উপর গৃহকর অন্যায় ও অযৌক্তিক। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং দ্বৈতকরের বোঝা চাপে।”

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নুরুল আবসার বলেন, “মেয়র সাহেব আপিলের প্রহসন চালিয়ে যাচ্ছেন। পাঁচশ জনের আপিল শুনানি করতে এক সপ্তাহ চলে গেল তাহলে এক লাখ ৮৫ হাজার করদাতার আপিল শুনানি করতে তো আট বছর লাগবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার-উল-করিম, সহ-সভাপতি মজিবুল হক চুন্নু, মো. ছৈয়দুল হক, শ্রমিক নেতা ছিদ্দিকুল ইসলাম, আট মহল্লার নেতা মো. শাহজাহান চৌধুরী, হাজী মমতাজ আহমদ, হাসমত আলী, কামাল উদ্দিন সরকার প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল কদমতলী থেকে নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) প্রাথমিক পুনর্মূল্যায়নে সর্বমোট এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত গৃহকর দাবি ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মন্তব্য করুন

comments