বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি থেকে মুক্তি দিতে মহেশখালে খনন শুরু

105
শেয়ার

নগরীর মহেশখালের কারণে আগ্রাবাদ-হালিশহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আগ্রাবাদ ও হালিশহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের দূর্ভোগ বিবেচনা করে মহেশখালে খননের কাজে হাত দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। গত শনিবার চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মহেশখালের বাঁক সোজা করার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

মহেশখালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশন খনন করবে। পোর্ট কানেকটিং সড়ক ও আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক সংলগ্ন নালাসহ সংস্কার করা হবে। খননকাজ শেষ হলে এর সুফল মানুষ পাবে।

মহেশখালের বাঁক সোজা করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ জায়গা অধিগ্রহণ করেছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ৬ জুলাই অধিগ্রহণকৃত জায়গায় খাল কেটে বাঁক সোজা করার জন্য এস্কেভেটরের মাধ্যমে মাটি কাটার কাজ শুরু করে। শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, মহেশখাল, নাজিরখাল ও গয়নার ছড়ার পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নগরীতে বিদ্যমান সব খালের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এ সময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী, আবিদা আজাদ, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়–য়া, বিপ্লব দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক, জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুর রহিমসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মহেশখালে স্লুইস গেট হবে

মহেশখালের মুখের কাছে স্থায়ী স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, স্থায়ী স্লুইস গেট নির্মাণে ১৮ মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তাই অস্থায়ী স্লুইস গেট অপসারণ হলে ভরা জোয়ারে আগামী বর্ষায়ও সমস্যা হতে পারে। পরের বর্ষায় আর সমস্যা হবে না।

মহেশখালীর মুখে কুমারখালী রেলসেতুর পরে স্থায়ী স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (চুয়েট) দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ স্লুইস গেটটি নির্মাণ করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও পরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। কর্ণফুলী নদী পরিকল্পিতভাবে খনন না হওয়া এবং খাল ও উপখাল অবৈধ দখলকারীদের কবল থেকে মুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি মিলছে না।

মন্তব্য করুন

comments