X

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘নান্দনিক চট্টগ্রামের নন্দিত নাগরিক’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বলেন, “চট্টগ্রামের দুঃখ জলাবদ্ধতার সহসা স্থায়ী সমাধান হবে। এজন্য বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।”

তিনি বলেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসন করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের দুঃখ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে অচিরেই। এ জন্য বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে রিভার ড্রাইভ নির্মাণ করে কর্ণফুলী নদীর খালগুলোর মুখে স্লুইস গেট বসিয়ে পানি নিষ্কাষণের জন্য পাম্প হাউস বসানো হবে। অতিদ্রুতই এ প্রকল্প একনেকে যাচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হচ্ছে ছয় হাজার কোটি টাকার কম নয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামকে প্রকৃত নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারি সকল সংস্থা বিশেষ করে সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র সমন্বিত কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সভাপতি স্বপন কুমার মল্লিক, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল মনসুর, যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, অর্থ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউনুছ গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক রোকসারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য ম. শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি চট্টগ্রামকে নিয়ে সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম হল ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে আধুনিক কমপ্লেক্স করা হচ্ছে, এটি বাস্তবায়নের পথে। চট্টগ্রাম নগরীকে আরো বেশী নান্দনিক করতে বেশ কিছু প্রকল্পের কথা বলেন মন্ত্রী।

নগরের ডিসি হিলকে আধুনিকায়ন করে পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র ও নজরুলজয়ন্তীর মতো জাতীয় অনুষ্ঠান ছাড়া নামসর্বস্ব সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চট্টগ্রামবাসীর বিনোদনের সুবিধা বাড়াতে আলমাস ও দিনার সিনেমা হলে ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিক সিনেপ্লেক্স করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নাগরিকরা অবসর সময়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ভালো সিনেমা দেখতে পারবে। এ ছাড়া আগ্রাবাদ শিশু পার্কে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার করার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নগরের পাঁচলাইশে অবস্থিত জাতিসংঘ পার্কের আধুনিকায়নের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

comments