চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে আদালতে তলব

91
শেয়ার

যারা পাহাড় কেটেছেন তাদের কাছ থেকে খরচ নিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গুনাগড়িতে কাটা পাহাড় মাটি দিয়ে ভরাট করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি, তা জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে তলব করেছে হাই কোর্ট।

আগামী ২২ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদলত।

বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে ৬ মাসে ২৬ হাজার ট্রাক মাটি বিক্রি’ শিরোনামে ছয় বছর আগে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সে খবর যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০১১ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করে।

এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুলাই হাই কোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন তিন দফা নির্দেশনা দেয়।

তিন নির্দেশনা হল- কেউ যেন পাহাড় না কাটে, সে বিষয়ে তদারকি করা, যারা পাহাড় কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং যারা পাহাড় কেটেছে তদের কাছ থেকে খরচ নিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করে পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

তিনটি নির্দেশনাই ছিল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রতি।

মনজিল মোরসেদ বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব নির্দেশনা প্রতিপালন বা পদক্ষেপের বিষয়ে দুই বার অগ্রগতি প্রতিবেদন দিলেও সেখানে তৃতীয় নির্দেশনা অর্থাৎ যারা পাহাড় কেটেছেন তাদের কাছ থেকে খরচ নিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করে পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপের উল্লেখ ছিল না।”

পরে চলতি বছরের ৬ জুন হাই কোর্ট মাটি ভরাটের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেয়।

সে অনুযায়ী ৩০ জুলাই চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু সে প্রতিবেদনেও তৃতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

“এ বিষয়টি নজরে আনলে আদালত আজ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে ২২ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে,” বলেন মনজিল মোরসেদ।

মন্তব্য করুন

comments