ভর্তি জালিয়াতিতে চবি থেকে দুজন বহিষ্কার;জালিয়াত-চক্রের তালিকায় ৬০ শিক্ষার্থী

39
শেয়ার

ভর্তি জালিয়াতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসসহ পুলিশের হাতে আটক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের এম জে এইচ ইশতিয়াক আহমেদ সৌরভ ও ইংরেজী বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শরিফুল ইসলাম নাজমুল।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভর্তি জালিয়াতি চক্রের সদস্য হিসেবে আটক হওয়ায় উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতাবলে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজীদ থেকে শরীফুল ইসলাম নাজমুলকে ডিভাইসসহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের একটি দল পাঁচলাইশ এলাকা থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমেদ সৌরভকে আটক করে।

এ সময় তার কাছে ২টি হিয়ারিং ডিভাইস, ২টি ব্লু টুথ ডিভাইস ও বেশ কয়েকটি ব্যাটারি পাওয়া যায়।

এদিকে ভর্তি জালিয়াত-চক্রের সঙ্গে জড়িত এই দুইজনের কাছ থেকে ৬০ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর তালিকা পেয়েছে পুলিশ। যাদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার হলে অত্যাধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ফলে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে দাবি পুলিশের।

তাদের কাছ থেকে যে যন্ত্রপাতিগুলো জব্দ করা হয়েছে তা বেশ অত্যাধুনিক। যেগুলোর সাহায্যে বাইর থেকে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীকে উত্তর বলে দেওয়া সম্ভব।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার এসআই আবছার উদ্দিন বলেন, ‘জালিয়াত-চক্র শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র জব্দ করে রাখত। কারণ যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক টাকা দিয়ে দেয়। ইশতিয়াক ও নাজমুলের কাছে যে তালিকা পেয়েছি সেখানে ৬০ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর নাম আছে। আমরা যেগুলো আদালতে জমা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, এই চক্রের নেটওয়ার্ক অনেক বড়। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জালিয়াত-চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments