X

মায়ের উপর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ১০ বছরের শিশুর

মাকে বাবার হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতে দেখে সহ্য করতে পারেনি সে ১০ বছরের ছোট্ট শিশু রবিউল।ছোট্ট শিশু সে,কি ই বা প্রতিবাদ করবে ।তারপরেও প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলো সে।প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার বাবার হাতে সে মারধরের শিকারও হয়।

মোঃ রবিউল হোসেন, বয়স ১০ বছর, পেশায় গ্যারেজ হেলপার। সংসারের নিত্য অভাব অনটনের কারনে স্কুলের গন্ডি পেরুবার সুযোগই হয়নি। চার ভাই বোনের সংসারে বাবা মাকে সহায়তা করার জন্য গ্যারেজের হেলপার হিসাবে চাকুরি নেয়।

কিন্তু সেই বাবাই যখন গাঁজা, ইয়াবা সেবন করে প্রতিনিয়ত চোখের সামনে মাকে অত্যাচার করে, মারধর করে তখন কোমলমতি শিশুমন হয়ে উঠে বিদ্রোহী। খুঁজতে থাকে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জায়গা।

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে মোঃ দেলোয়ার হোসেন সাহেদ নামে তার এক বন্ধুর সহায়তায় চলে এলো চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানায়। বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাল ওসির কাছে।

ওসি আলমগীর মাহমুদ নিরাশ করেননি তাকে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি।অবুঝ ২ শিশুর সাহসী ভূমিকাকে সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন তিনি।তবে পালিয়ে যাওয়ায় আকবরশাহ থানার লতিফপুর পাক্কা রাস্তায় মাথায় কালীরহাট এলাকার মোক্তার আহমদকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ জানান, শিশুটি পাড়ার নেভি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিপড়ূয়া এক বন্ধুকে নিয়ে থানায় আসে। সে এসে অভিযোগ করে তার মাকে প্রতিদিন তার বাবা মারধর করে। কেন মারধর করে জানতে চাইলে বলে, তার বাবা গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করেন। মাদকের টাকার জন্য প্রতিদিন মারধর করে।পুলিশকে জানানোর কথা বললে তার বাবা উল্টো পুলিশের দারোগার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানায়।

ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। যেন মাদকাসক্ত মোক্তার শিশুটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে। শিশুটি সরাসরি থানা পুলিশের কাছে চলে আসার বিষয়টি সাহসী ও প্রশংসনীয়।’

মন্তব্য করুন

comments