গৃহকর নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছেঃ মেয়র নাছির

34
শেয়ার
ছবিঃ আর্কাইভ

গৃহকর নিয়ে ভিত্তিহীন মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এসব মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির অবসান চেয়েছেন। রবিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন গৃহকর নিয়ে চলমান বিভ্রান্তির অবসান চান।

বিবৃতিতে মেয়র বলেন, ‘আমি মেয়র হলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।দলীয় সভাপতির বাসভবনে সম্প্রতি কয়েকটি বৈঠক এবং ২০ অক্টোবরের সভার বিষয়ে আমি অবহিত নই। তবে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঐ সভায় পৌরকর নিয়ে দল ও সরকারকে বিব্রত করা হচ্ছে মর্মে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাহা কোন ক্রমেই গ্রহনযোগ্য নয়। বরং সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ও কার্যকরি কমিটির অনেককে অবহিত না করে সভায় যেসব আলোচনা করা হয়েছে তাহা বিভ্রান্তিমূলক ও সঠিক নয়। হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমি বিভিন্ন সংবাদ ও সভার মাধ্যমে মেয়র হিসাবে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে সাবেক মেয়র নিশ্চয়ই অবহিত আছেন। সিটি কর্পোরেশন রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা পরিচালিত এবং সরকার সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর হোল্ডিং ট্যাক্স পুন:মূল্যায়ন করার আইনি বিধানের আলোকে বর্তমানের হোল্ডিং ট্যাক্স পুন:মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন আরও বলেন, ‘মেয়র সরকারের অংশ ও প্রতিষ্ঠান। যিনি মেয়র তাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে চলতে হয় এবং তার মধ্যেই উন্নয়ন ও জনসেবা পরিচালনা করতে হয়, কথাটা বার বার আমি বোঝাতে চেষ্টা করেছি। পৌরকর নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে অথচ আজ পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ পাইনি।তবুও সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন, ময়লা-আবর্জনা অপসারন, নালা ও খাল পরিচ্ছন্ন রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শকে স্বাগত জানাই। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মেয়রের দায়িত্ব পালনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তির উর্ধ্বে উঠে আমাকে সহযোগীতা করবেন এটা আমার প্রত্যাশা। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, গ্যাস, চউক, ওয়াসা, বন্দর, পুলিশ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময়কে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে কার্যকরী কমিটির সভা করে এ সব কার্যক্রম গ্রহন করা হলে সংগঠন গতিশীল হতো, নেতৃত্বের ভাবমূর্তি বিকশিত হত বলে আমি মনে করি।’

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বিবৃতিতে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি একজন প্রবীণ নেতা। এক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতার আলোকে কোনও পরামর্শ থাকলে, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে তা আমার সঙ্গে আলোচনা করতেই পারেন। সেক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর মধ্যে অবশ্যই আমি পরিকল্পিত নগরায়নে ও জনস্বার্থে তার পরামর্শকে প্রাধান্য দেবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের চিন্তা, চেতনা, ধ্যানধারনা ও মনমানসিকতার উন্নয়ন ও পরিবর্তন খুবই জরুরী। সিটি কর্পোরেশনকে কাঙ্খিত সেবা প্রদানে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার মানসে কর্পোরেশনের প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধ করার ইতিবাচক মনমানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা উন্নয়ন বান্ধব চিন্তা চেতনার দিকে অগ্রসরমান থাকা অবস্থায় আমাদের সকলকে আন্তরিকভাবে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

comments