X

ছিনতাইকারী চক্র হামকা গ্রুপের প্রধান মিলন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো একসময়ের দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্র ‘হামকা গ্রুপের’ প্রধান গোলাম সরওয়ার মিলনকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জুয়ার আসর থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে নগরীর ডবলমুরিং থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারী।

শনিবার (২১ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে নগরীর পলোগ্রাউণ্ড সংলগ্ন পোস্তার পাড় এলাকা থেকে মিলনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে একটি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম।

ওসি মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, হামকা গ্রুপ ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সাইলেন্ট কিলিং করে পুরো নগরীকে একসময় আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছিল। মিলন এই গ্রুপের একজন প্রতিষ্ঠাতা এবং নেতা। দীর্ঘদিন ধরে মিলন পলাতক ছিল। ২০১২ সালের পর এবার তাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

এক সময়ে সরাসরি ছিনতাইয়ে অংশ নিলেও পাঁচ বছর ধরে পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ গোলাম সরোয়ার মিলন ওরফে হামকা মিলনের নাম ঘুরে ফিরেই আসত সব বড় বড় ছিনতাইয়ের ঘটনায়।

পুলিশ বলছে, আত্মগোপনে থেকেও মিলনের ছিনতাই কারবার বন্ধ ছিল না, এসময় তিনি বিভিন্ন ছিনতাইকারী দলকে অস্ত্র সরবরাহ করা ছাড়াও নানাভাবে সহায়তা করতেন; বিনিময়ে পেতেন ছিনতাই করা মালামালের ভাগ।

পুলিশের তথ্য, প্রায় এক দশক আগে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েন মিলন। ওই সময়ে নগরীতে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন ঘটনায়ও ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান।

ওসি মহিউদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে গত কয়েক বছরে যেসব বড় বড় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোতে কোনো না কোনো ভাবে নাম এসেছে হামকা মিলনের। সে বিভিন্ন ছিনতাইকারী গ্রুপগুলোকে অস্ত্র সরবরাহসহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা করে।’

‘আগে মিলনের গ্রুপে অনেকে থাকলেও এখন তার গ্রুপ থেকে বের হয়ে টেম্পু, হাতকাটা জাহাঙ্গীর, ভাগিনা জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে আলাদা গ্রুপ তৈরি করেছে।’

বর্তমানে মিলনের গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য আছে জানিয়ে ওসি মহিউদ্দিন বলেন, “মিলন এখন সরাসরি ছিনতাইয়ে অংশ না নিয়ে তার গ্রুপের সদস্যদের টার্গেট ঠিক করে দেয়। তারা টার্গেট অনুযায়ী কাজ করে মিলনকে ভাগ দেয়।’

‘টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রামে বেশকিছু ‘কন্ট্রাক কিলিংয়ের’ সাথেও মিলন জড়িত ছিল বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে মোগলটুলি এলাকার কানা মান্নান হত্যাকাণ্ডেও সে সরাসরি জড়িত ছিল।”

সূত্রমতে, ২০০৬ সালে গোলাম সরওয়ার মিলন, নূরুল আলম, নান্টুসহ কয়েকজন মিলে হামকা গ্রুপ গঠন করেন। এর আগে তারা মোগলটুলি এলাকার দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী খোরশেদ, কানা মান্নানদের দলে ছিলেন।

২০০৭ ও ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের মেধাবী ছাত্র শাওন, বিআরটিএ কর্মকর্তা প্রীতি রঞ্জন চাকমা, প্রবাসী রফিক, আইনজীবী দ্বীন মোহাম্মদসহ প্রায় ১১ জন সাইলেন্ট কিলিংয়ের শিকার হন।

২০১১ সালের ১৯ জুলাই হাটহাজারীতে একটি খুনের চেষ্টার ঘটনায় তিন ছিনতাইকারী ধরা পড়ে। তাদের স্বীকারোক্তিতে প্রথম হামকা গ্রুপের নাম প্রকাশ হয়। একের পর এক বের হয় এই হামকা গ্রুপের হাতে খুনের লৌমহর্ষক তথ্য।

হামকা গ্রুপের সদস্যরা নির্জন স্থানে থেকে ছিনতাইয়ের জন্য টার্গেট করে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুন করে তার টাকাপয়সা, মোবাইল, মালামাল লুট করে লাশ ফেলে দিয়ে চলে যেত। নির্জন স্থানে লাশ পড়ে থাকায় পরিচয় এবং খুনির সন্ধান করতে পুলিশকে বেগ পেতে হত।

‘তবে অভিযানে হামকা গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য ধরা পড়ার পর তারা সম্প্রতি কৌশল পাল্টে ফেলে। এখন হামকা গ্রুপের সদস্যরা সিএনজি অটোরিকশার মাধ্যমে ব্যাগ টান দেওয়া, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির মাধ্যমে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে।’ বলেন ওসি

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রমতে, নগরীতে সক্রিয় ছিনতাইকারী গ্রুপগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করেন এই মিলন। ২০১২ সালে জেল থেকে বের হবার পর পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে মিলন ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এরপরও তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে একটি মামলায় তার ১০ বছরের সাজাও হয়।

মন্তব্য করুন

comments