X

ইয়াবাসহ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র আটক

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ ও বায়োজিদ বোস্তামি থানাধীন এলাকা থেকে বিশ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন খ্রিষ্টান সেমিট্রে রোডস্থ বশর মাকের্টের মেসার্স জব্বর ষ্টোর সামনে থেকে প্রথমে মোঃ আতিকুল আলম তারেককে ১০ হাজার ইয়াবা সহ গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট, ভান্ডারী গলির মকবুল জমিদারের ২য় তলার ভাড়াঘর হতে মোঃ রফিককে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সহ হাতে নাতে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মোঃ আতিকুল আলম তারেক(২২), পিতা-মোঃ নুরুল ইসলাম, মাতা-ছকিনা খাতুন, সাং-মহেশ খালীয়াপাড়া, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার বর্তমানে- আতুরার ডিপো তুলা কোম্পানী, এম এ সবুর আবাসিক, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম,

২। মোঃ রফিক (২৭), পিতা-মোঃ ইসমাইল, মাতা- মোছাঃ রাজিয়া বেগম, সাং-দক্ষিণচর, সাহাভিকারী, পোষ্ট-জমাদার বাজার, থানা-সোনাগাজী, জেলা-ফেনী বর্তমানে-মকবুল জমিদারের বাড়ী, ২য় তলা, রুম নং-৩, ভান্ডারী গলি, বিবিরহাট, থানা-পাঁচলাইশ, জেলা-চট্টগ্রাম।

১৭ অক্টোবর ২০১৭ইং তারিখ দিবাগত রাত ০১.১৫ এর দিকে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এএএম হুমায়ুন কবীর এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসীন, পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান, এসআই আবদুর রব, এসআই শিবু প্রসাদ চন্দ্র সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানাধীন খ্রিষ্টান সেমিট্রে রোডস্থ বশর মাকের্টের মেসার্স জব্বর ষ্টোরের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ আতিকুল আলম তারেক’কে ১০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ০২টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন বিবিরহাট, ভান্ডারী গলির মকবুল জমিদারের ২য় তলার ভাড়াঘর থেকে আসামী মোঃ রফিক’কে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ সর্বমোট ২০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আতিকুল আলম তারেক সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবি ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র। তার পিতা নুরুল ইসলামের টেকনাফে একটি পেট্রোল পাম্প, একটি অটোরাইস মিল, সারের ডিলার ও ১০/১২টি ভাড়া দোকান আছে। আসামীর পিতা অর্থশালী ব্যক্তি হলেও তার ছোট মেয়ের সাথে টেকনাফ মৌলভী পাড়ার একজন মাদক ব্যবসায়ী ফজর আলীর সহিত বিয়ে দেন। ফজর আলী ইয়াবা মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছে। তার নামে একাধিক ইয়াবা মামলা আছে। ফজর আলীর ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীও একজন কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার নামেও একাধিক ইয়াবা মামলা আছে।

তারেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলে। সে তার ছোট দুলাভাই ও তার আত্মীয় স্বজনের হাত ধরে ইয়াবা ব্যবসায় আসে। বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকায় খুব সহজেই তাদের ইয়াবা বিক্রি করতে পারে। তারেক টেকনাফ থেকে তার দুলাভাই ফজর আলী এবং নিজেই বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবা ট্যাবলেট চট্টগ্রামে এনে কোমলমতি ছাত্রদের কাছে বিক্রি করে বলে স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments