X

“আপিল শুনানির মাধ্যমে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে”-মেয়র নাছির

রিভিউ বোর্ডে আপিল শুনানির মাধ্যমে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। একইসাথে প্রমাণ সাপেক্ষে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর গৃহকর মওকুফ এবং নগরীর আদিবাসীদের গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল বিকালে নগর ভবনে চসিক মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে ১১ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৩৯ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেয়র।সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কর মেলা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে গৃহকর মূল্যায়ন সংক্রান্ত যে কোন জটিল বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদের সাথে পরামর্শ করা এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে জনআকাংখা তুলে ধরার জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা সমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত হয়।দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক অসুস্থতার জন্য বাসায় বিশ্রামে থাকা মেয়র ৪৫ দিন পর গতকাল বৈঠক উপলক্ষে নগর ভবনে আসেন।

সভায় সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দীন ১৯৮৬ সনের কর বিধি থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি এবং যাবতীয় চিঠিপত্র কাউন্সিলরদের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি চসিকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন, প্রশাসনিক ব্যয়, মেয়র ও কাউন্সিলরদের সম্মানী ভাতাসহ নানা সুযোগ–সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাসমূহ তুলে ধরেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নগরীর যাবতীয় সেবাধর্মী কার্যক্রমের বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। অধীনস্থ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদসহ নানা ক্ষেত্রে ধার্যকৃত হোল্ডিং ট্যাক্সের উপমাসমূহও তুলে ধরেন। নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের গেজেটে বর্ণিত শর্তসমূহ তুলে ধরে বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স, ৭ শতাংশ আবর্জনা রেট ও ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেট মিলে হোল্ডারদের ১৭ শতাংশ পরিশোধ করার বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সনের ৩১ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে চসিকের এলাকার জন্য বিদ্যুতায়ন রেট ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশে নির্ধারণ করেছে এবং স্বাস্থ্যখাতে ৮ শতাংশ রেট আদায় করার ক্ষমতা প্রদান করেছে। এতদসত্ত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশণ ১৯৮৬ সনের কর বিধি অনুসরণ করে এসেসমেন্ট পরিচালনা করেছে। মেয়র বলেন, হোল্ডিং মালিকগণ কর মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে কোন জটিলতা বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে আলাপ করে জটিলতা নিরসনের সুযোগ নিতে পারেন। তাছাড়াও কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি থাকলে তা নিরসনের জন্য রিভিউ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি রিভিউ বোর্ডে মেয়রের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে মেয়র বা মেয়র মনোনীত ব্যক্তি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন সাথে একজন কাউন্সিলর, একজন আইনজীবী ও একজন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি থাকবেন। এর বাইরে মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে নগরীর মহল্লা সর্দারদের একজন প্রতিনিধি রিভিউ বোর্ডে থাকবে। রিভিউ বোর্ড ট্যাক্স হোল্ডারদের আপত্তি ও অভিযোগ এবং নগরীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণী ও পেশার অভিযোগ, দাবি ও আপত্তিসমূহ বিবেচনায় এনে পৌরকর চূড়ান্ত করার পর চসিক তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এছাড়াও গরীব, অস্বচ্ছল হোল্ডিং মালিকদের পৌরকর সম্পূর্ণ মওকুফ করাসহ আদিবাসীদের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে।

সিটি মেয়র বলেন, চসিক একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন, পরিবেশবান্ধব পরিবেশ ও বাসোপযোগী নগরী গড়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, নালা নর্দমা নির্মাণ ও সংস্কার, আলোকায়ন এবং আবর্জনা অপসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করা এ প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ। প্রশাসনিক ব্যয় ও উন্নয়ন করের উপর নির্ভরশীল। সরকারের প্রনোদনা, প্রকল্পভিত্তিক অনুদান এবং নগরবাসীর প্রদেয় গৃহকরের উপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামকে নান্দনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে নগরবাসী তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে। অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা থেকে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা মেয়রের দায়িত্ব।

সিটি মেয়র বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গেজেট বিজ্ঞপ্তির আলোকে এবং আইনের বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সম্প্রতি পঞ্চবার্ষিকী পৗর কর পুনঃমূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। এ পুনঃমূল্যায়নের খসড়া তালিকা হোল্ডারদের নিকট প্রকাশ করেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে হোল্ডারদের আপিল আপত্তি পেশ করার জন্য চসিক আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় ধার্য্য করেছে। এছাড়াও হোল্ডারদের আপিল আপত্তি নিষ্পত্তি করার জন্য চসিক রিভিউ বোর্ড গঠন করেছে।

মেয়র বলেন, ‘মানুষের প্রতি আমার আন্তরিকতা কম নেই। নগরবাসীর প্রতি আমার ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা আছে বলেই ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তার আলোকেও পুরোপুরি করটা ধার্য করি নি। ২০১৬ সালের গেজেট অনুসরণ করলে তো ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্সের পাশাপাশি ৭ শতাংশ আর্বজনা রেইট, ৫ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বা সড়কবাতি রেইট এবং ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য রেইট আদায় করতে পারবো। কিন্তু আমি তো বর্ধিত স্বাস্থ্য রেইট এবং বিদ্যুতায়নের বর্ধিত রেইট নিচ্ছি না। বর্তমানে আমরা বিদ্যুতায়ন রেইট ধার্য করেছি ৩ শতাংশ। অথচ নতুন গেজেট অনুযায়ী ৫ শতাংশ নোয়ার সুযোগ আছে। এখান থেকে কি বোঝা যায় না, নগরবাসীর প্রতি আমার আন্তরিকতা আছে। তবুও এটা নিয়ে কথা কেন হচ্ছে।’

সভায় প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, কিছু হোল্ডিং মালিক বর্ধিত করের বিষয়ে তাকে যে অভিযোগ করেছেন তা তিনি সভায় তুলে ধরেছেন। গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সিটি মেয়রও একমত পোষণ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যারা আপিল করবেন তাদের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসাথে এখনো যারা আপিল করেননি তারা যেন যথাসময়ে আপিল করেন, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানান মেয়র।

মন্তব্য করুন

comments