অসহনীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের ট্রাফিক জ্যাম; চরম ভোগান্তির স্বীকার নগরবাসী

85
শেয়ার

কেয়ারী থেকে চিটাগাং মেডিকেল, দুরত্ব আনুমানিক ২ কিলোমিটার। সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট, সেখান থেকে সি.এস.সি.আর পার হতে আরো আধাঘন্টা, সেখান থেকে ন্যাশনাল হসপিটাল হয়ে যদি যেতে হয় তাহলে পুরো সবকিছু মিলে হয়ত এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লেগে যাবে। অথচ দুরত্ব কিন্তু ২ থেকে ৩ কিলোমিটার। বেশি বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে? যারা এই পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে তারা খুব ভালোভাবেই জানে প্রায় প্রতিদিন সন্ধার পরে যানজটের এই অবস্থা।

শুধু এই রাস্তাতেই নয়, নগরীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নিত্তনৈমত্তিক দৃশ্য এটি। জি.ই.সি এলাকা, ২নং গেইট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, ই.পি.জেড এলাকা প্রায় প্রতিটি রাস্তায় যানযটের এই বেহাল দশা। এছাড়ো সম্প্রতি ভারী বর্ষনে চট্টগ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে, খান-খন্দে ভরা বেশীরভাগ সড়ক। মেয়র আজম নাছির উদ্দিন জানান প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে এবারের ভারী বর্ষনে।

সন্ধ্যার পর কেউ যদি পতেংগা তে কিংবা এয়ারপোর্ট এলাকায় যেতে চায় তাহলে তাকে ই.পি.জেড এর জ্যামেই আটকে থাকতে হবে কমপক্ষে ১ ঘন্টা, তার উপর মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে রাস্তা ভাঙা, এই এলাকাতে যারা অফিস করেন তাদের প্রতিদিন শত শত ঘন্টা কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে, যা একটা দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেই শুভ নয়।

গত বৃষ্টিতে রাস্তার যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার কারণে ও যানজট অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হয়। রাস্তার মাঝখানে অনেক জায়গাতে গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে দুর্ঘটনার আশংকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এলাকাবাসীর অনেকে মনে করেন। কোন রোগী কে নিয়ে যদি তাদের পতেঙ্গা এলাকা থেকে জি.ই.সি এর দিকে আসতে হয় তাহলে তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়, যদি হার্ট, স্ট্রোক এর কিংবা কোন মূমূর্ষ রোগী হয় তাহলে তাদের আরও বেশি ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় শুধুমাত্র সঠিক সময় হাসপাতাল পৌঁছতে না পারার কারনে।

এখানে উল্লেখ্য চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তাগুলো বিগত কয়েক বছরে সরকারের উন্নয়নের ফলে বেশ প্রশস্ত হয়েছে। যানবাহনের বাড়তি চাপ স্বত্বেও চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তার যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নগরীর যানজট কমছে না ।দিন দিন যেন আরো বাড়ছে। তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে কিছু কারণ হলো, নগরীর ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র প্রাইভেট কার, সিএনজি, ঠেলাগাড়ী, ভ্যান ও রিক্সা পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে যানবাহন চলাচলের পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়।

চকবাজার এলাকা থেকে শুরু করে আন্দরকিল্লা, কে.সি.দে রোড় এবং লালদীঘি, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর সহ অনেক এলাকা তে যত্রতএ গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয় যার ফলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বর্তমান ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। জিইসি মোড় হতে প্রবর্তক রাস্তার দুইপার্শ্বে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, হলুদ ট্যাক্সিক্যাব এবং সিএনজি যানজটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। এতে অনেক মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।

সর্বোপরি অপ্রতুল রাস্তাঘাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট সমস্যা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে এ সমস্যা নিরসণের মাধ্যমে মূল্যবান কর্মঘণ্টা ও অর্থ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। এই বিষয়ে প্রশাসন যদি সুনজর দেয় তাহলে অনেকাংশে যানজট নিরশন হবে বলে আশা করা যায়।

মন্তব্য করুন

comments