X

হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিল নগর আওয়ামী লীগ

হোল্ডিং ট্যাক্স যাতে না বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।

সোমবার রাতে নগরীর চশমা হিলে নগর কমিটির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় নগর আওয়ামী লীগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মেয়রের পাশাপাশি নগরীর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট, বেহাল সড়ক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে যথাক্রমে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), পিডিবি, ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকেও চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই সভায়।

এর আগে হোল্ডিং ট্যাক্সের পুরনো হাল বহালের দাবি জানিয়ে ‘করদাতা সুরক্ষা পরিষদের’ সমাবেশ থেকে মেয়রকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্ত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদেকর পুরনো বিরোধ আবার উস্কে দেয় কি না তাই নিয়ে কৌতুহল রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সোমবার রাতের সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সহ-সভাপতি সুনীল সরকার, খোরশেদ আলম সুজন ও জহিরুল আলম দোভাষ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান ও নোমান আল মাহমুদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের ও আবু তাহের ও উপ-দপ্তর সম্পাদক জহর লাল হাজারী।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তে শহর উতপ্ত। মহল্লায় মহল্লায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

“আগের ধার্য হোল্ডিং ট্যাক্স বহাল রাখতে এবং ভাঙ্গা সড়ক দ্রুত মেরামত করতে চিঠি দিয়ে মেয়রকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকে চিঠি প্রস্তুত করে আগামীকাল (বুধবার) তা মেয়রের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।”

সোমবার রাতের সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা এই সমাজেই বাস করি। সমাজের মানুষের বাইরে আমরা নই। রাজনীতি করি বলেই আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।

“যেহেতু মেয়র দলের তাই রিভিউ করতে অনুরোধ করতে পারি। এতে জনগণও দলের অবস্থান জানতে পারবে।”

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে- বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে এবং সড়ক সংস্কার দ্রুত শেষ করতে সিডিএকে, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যঘাতের বিষয় উল্লেখ করে কেজিডিসিএলকে, পানির অপ্রতুলতা নিরসনে ওয়াসাকে, ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ বন্ধে পিডিবিকে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হবে।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চিঠিগুলো প্রস্তুত করে এসব সংস্থার পৌঁছে দেওয়া হবে। পরে দলের নেতারা একসাথে সংস্থার প্রধানদের সাথে দেখা করতে যাব।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্চে ‘পঞ্চবার্ষিকী কর মূল্যায়ন কর্মসূচি’র মধ্য দিয়ে নতুন করে হোল্ডিং এর কর নির্ধারণ শুরু হয়। মূল্যায়ন শেষে গত ৩১ অগাস্ট তা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে আপিল করতে যে সময় নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) তা আজ (মঙ্গলবার) শেষ হচ্ছে। আপিলের সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়াতে চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে সিসিসি।

নতুন কর মূল্যায়নের পর থেকেই নগরবাসী অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন।

পাশাপাশি করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নতুন পদ্ধতিতে ভাড়ার ভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিবর্তে আগের নিয়মে স্থাপনার আয়তন হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছে।

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারের সময় হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পুর্নম্যূলায়ন শুরুর সময় থেকে মেয়র নাছির বলছেন- হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর এখতিয়ার সরকারের। তিনি কেবল মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ অনুসারে কর আদায়ের চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন

comments